গাজীপুর মহানগরে গত ছয় মাসে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি দমন কার্যক্রমে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করেছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ইন্সপেক্টর মিডিয়া সেল মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, জুলাই ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার আটটি থানায় ১৫টি ডাকাতি মামলা রেকর্ড হয়েছে এবং ৫২ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ৯৩টি ছিনতাই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং ৭৭০ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চুরির ১৪৯টি মামলা রেকর্ড হয়েছে এবং ৩৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে শুধু এই জানুয়ারি মাসেই ৬২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগরের থানা অনুযায়ী চুরি ছিনতাই ও ডাকাতির তথ্য তথ্য পর্যালোচনা দেখা যায়:
গাজীপুর সদর মেট্রো: ডাকাতি ৮ গ্রেফতার ১৬, ছিনতাই ৮ গ্রেফতার ৫৩, চুরি ৯২ গ্রেফতার ১। বাসন মেট্রো থানা: ডাকাতি ২ গ্রেফতার ১৩, ছিনতাই ৫৩ গ্রেফতার ৩৬, চুরি ৯২ গ্রেফতার ১।
কোনাবাড়ী মেট্রো থানা: ডাকাতি ২ গ্রেফতার ১০, ছিনতাই ৬ গ্রেফতার ৬, চুরি ১৭ গ্রেফতার ৩১। কাশিমপুর মেট্রো থানা: ডাকাতি ২ গ্রেফতার ৬, ছিনতাই ৩ গ্রেফতার ৫, চুরি ১১ গ্রেফতার ৩০।
টঙ্গী পূর্ব মেট্রো থানা: ছিনতাই ২৮ গ্রেফতার ২৮০, চুরি ৩১ গ্রেফতার ১৫০।
টঙ্গী পশ্চিম মেট্রো থানা: ছিনতাই ২২ গ্রেফতার ২১৪, চুরি ১৬ গ্রেফতার ২৪।
গাছা মেট্রো থানা: ডাকাতি ১ গ্রেফতার ৭, ছিনতাই ১১ গ্রেফতার ৭০, চুরি ১০ গ্রেফতার ৮।
পুবাইল মেট্রো থানা: ছিনতাই ২ গ্রেফতার ৩, চুরি ১০ গ্রেফতার ২৭।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার জানান, ‘আমরা গাজীপুর মহানগরের নিরাপত্তা ও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য প্রতিনিয়ত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। থানার মোবাইল ও টহল ডিউটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, চেকপোস্ট সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে, ডাকাতি প্রবণ এলাকা পরিষ্কার রাখা হয়েছে এবং নির্জন এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিয়মিত বিশেষ অভিযান, বিট ভিত্তিক অপরাধী তালিকা তৈরি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং জনসচেতনতা মূলক সভা সমাবেশের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফলাফল এসেছে।’
কমিশনার আরও বলেন, ‘টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার আওতায় বিআরটিএ ফ্লাইওভারের নিচে নামার কয়েকটি সিঁড়ি বন্ধ করা হয়েছে এবং ফ্লাইওভারের উপর বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ছিনতাইকারীদের নাম, ঠিকানা ও ছবিসহ বিট ভিত্তিক অফিসারদের বই বিতরণ করা হয়েছে যা নিয়মিত নজরদারি ও তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনায় সহায়ক হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে গাজীপুর মহানগর আরও নিরাপদ হয়েছে, সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারছে এবং আমাদের পরিকল্পিত অভিযান ও সচেতনতা মূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও অপরাধ দমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’