রাজশাহী অঞ্চলে জ্বালানি তেলের কালোবাজারি চলছেই। বাড়ছে এর অবৈধ ও গোপন মওজুদও। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হিমশিম অবস্থা। জ্বালানি সংকটে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মওজুদ করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করে চলেছে প্রশাসনের লোকজন। পেট্রোল ও অকটেনের চলমান সঙ্কট ও অস্থিরতাকে পুঁজি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধ জ্বালানি মওজুদ করছে। এসব অবৈধ কারবারীদের দণ্ড দিয়েও এর লাগাম যেন কোনভাবেই টানা যাচ্ছে না। একদিকে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য সাধারণ মানুষের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠা শক্তিশালী কালোবাজারি চক্রের এমন তৎপরতায় বড় প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন তেলের পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন মোটরসাইকেল ও যানবাহন চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে কাক্সিক্ষত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন না। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পাম্পগুলোতে ‘সরবরাহ নেই’ অজুহাত দেয়া হলেও অসাধু চক্রগুলো ড্রামে ভরে তেল সরিয়ে ফেলছে। এই তেল পরবর্তীতে খুচরা বাজারে দ্বিগুণ বা তিনগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে বোতলজাত পেট্রল ও অকটেন চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে, অবৈধ মওজুদ রোধে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে প্রশাসন তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেল-জরিমানা ও অবৈধ তেল জব্দ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের এই চেষ্টার সুফল খুবই সামান্য। দৃশ্যত বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। অভিযানের সংবাদ পাওয়ার আগেই মওজুদদাররা সতর্ক হয়ে যাচ্ছে, ফলে মূল হোতারা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমন কৃত্রিম সঙ্কট এবং প্রশাসনের কার্যকর ফলাফলের অভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং কালোবাজারি সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে অবৈধ মওজুদ রোধে রাজশাহীসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। তেল পাচার ও দেশের অভ্যন্তরে মওজুদ ঠেকাতে রাজশাহীর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোতে গত ২৫ মার্চ থেকে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্র জানায়, বাংলাদেশে সরকার জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দেয়, ফলে দেশের বাজারে এর দাম পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় কম। এই মূল্য ব্যবধানের কারণে পাচারের প্রবণতা তৈরি হয়। তবে এ ধরনের কার্যক্রম রোধে বিজিবি কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। রাজশাহীতে সীমান্তের আট কিলোমিটারের ভেতরের এলাকায় বিজিবি সরাসরি নজরদারি করছে এবং এর বাইরে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে ১৬টি বিওপি থেকে নিয়মিত অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত ১৯২টি বিশেষ টহল, ২২৮টি ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া বেলপুকুর ও রাজাবাড়ি চেকপোস্টে প্রায় আড়াই হাজার যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়েছে। নৌপথে স্পিডবোট ব্যবহার করে ৪৮টি টহল পরিচালনা করা হয়েছে।