কারিমুল হাসান, ধুনট সংবাদদাতা : জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধুমাত্র স্বাদ ও পুষ্টিগুণেই সমৃদ্ধ নয়, এর পুষ্পমঞ্জরীর গঠন ও ফল ধারণের প্রক্রিয়াও অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। বৈচিত্রের রূপে গ্রষ্মের আগমনী বার্তা নিয়ে বগুড়ার ধুনটে গাছে গাছে দুলতে শুরু করেছে কাঁঠালের পুষ্পমঞ্জরী। এলাকা ভেদে আঞ্চলিক ভাষায় কখনো কাঁঠালের মুচি বা মুচাও বলা হয়ে থাকে। মুলত কাঁঠাল গাছে যে বিশেষ ধরনের ফুলের বিন্যাস দেখা যায়, তাকেই পুষ্পমঞ্জরী বলা হয়ে থাকে। এই পুষ্পমঞ্জরীই কাঁঠাল ফল উৎপাদনের মুল ভিত্তি। কাঁঠাল গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা আলাদা পুষ্পমঞ্জরীতে জন্মায়। পুরুষ পুষ্পমঞ্জরী সাধারণত সংখ্যায় বেশি এবং লম্বাটে ও নরম গঠনের হয়। এগুলো থেকে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরী আকারে তুলনামূলক বড়, শক্ত ও গোলাকার হয়, যা গাছের কা- বা মোটা ডালের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে। পরবর্তীতে এই স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরীতেই কাঁঠাল ফলের গঠন শুরু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরাগায়নের পর স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরীর ভেতরের অসংখ্য ক্ষুদ্র ফুল একত্রে বৃদ্ধি পেয়ে একটি সম্পূর্ণ কাঁঠাল ফলে পরিণত হয়। এ কারণেই কাঁঠালকে যৌগিক ফল বলা হয়ে থাকে। বসন্তের শেষ ভাগ থেকে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত কাঁঠাল গাছে পুষ্পমঞ্জরীর উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। এই সময়ে আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করে পরাগায়নের মাধ্যমে ফলন ভালো হয়। তবে অতিরিক্ত খরা, অনিয়মিত বৃষ্টি বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুষ্পমঞ্জরী ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফল ধারণ ব্যাহত হয়। কাঁঠালের পুষ্পমঞ্জরী কেউ গননা না করলেও, বগুড়ার ধুনটে প্রতি বছরের চেয়ে এবার অনেকটা বেশি পুষ্পমঞ্জরী দেখা দিয়েছে। উপজেলা জুড়ে পুষ্পমঞ্জরী বেশি হলেও কাছের পাতা বিক্রির প্রবনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুষ্পমঞ্জরী ঝড়ে পড়াসহ উৎপাদন কম ও গুনগত নি¤œমান হওয়ার আশংকা করছে অনেকে। সরজমিনে দেখা যায়, বগুড়ার ধুনট উপজেলায় কাঁঠাল গাছের সমস্ত পাতা টাকার বিনিময়ে এক কালিন বিক্রির হিরিক। ক্রেতা বা পাইকারগন কাঁঠালের এই পাতা গুলো বিভিন্ন বাজারে অথবা কোন ছাগলের খামারে সরবরাহ করে থাকে। শহরে পাতার চাহিদা বেশি হলেও গ্রামে গাছের আকার অনুযায়ী প্রতি গাছের সমস্ত পাতা বিক্রি হয় ৫শ, ১ হাজার কিংবা ১ হাজার ৫শত টাকায়। অনেকে লাভের আশায় পাতা বিক্রি করায় যেমন নষ্ট হচ্ছে কাঁঠালের পুষ্পমঞ্জরী, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে কাঁঠাল উৎপাদন। কাঁঠালের পাতা বিক্রি রোধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে ভালো পাকা কাঁঠাল তো দুরের কথা, পুষ্পমঞ্জরী দেখতে পাবেনা আগামী প্রজন্ম।
কাঁঠাল গাছে নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিলে পুষ্পমঞ্জরী সুস্থ থাকে। এতে শুধু ফলের সংখ্যা বাড়ে না, ফলের আকার এবং মানও উন্নত হয়। সব মিলিয়ে, কাঁঠালের পুষ্পমঞ্জরী একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এই পুষ্পমঞ্জরীর সঠিক বিকাশের মধ্য দিয়েই আমাদের পরিচিত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর কাঁঠাল ফলের আগমন ঘটে