কারিমুল হাসান, ধুনট
সজনে ফুল। যা ইংরেজি মার্চ মাসের দিকে বসন্তকালে সবার দৃষ্টিগোচর হলেও, আগাম হিসেবে এ ফুল অনেকের চোখে পড়ছে। বসন্ত আসতে আরও কিছুদিন বাকি থাকলেও গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে শ্বেতশুভ্র সবুজাভ সজনে ফুল। বসন্তকালে প্রাকৃতিকভাবেই ভাইরাসজনিত রোগবালাই বৃদ্ধি পায়। প্রকৃতি যেন এ ফুলের মধ্যেই তুলে ধরেছে প্রতিরোধক্ষমতা। কেননা সজনে ফুলে রয়েছে ভিটামিন সি, এবি-৬, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রন, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক।
বগুড়ার ধুনটে ফেব্রুয়ারির প্রথমেই যেন দেখা মিলছে বহুগুণসমৃদ্ধ শ্বেতশুভ্র সবুজাভ সজনে ফুল। ঝুলে থাকা ফুলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে গাছ যেমন সেজেছে নতুন সাজে, তেমনি প্রকৃতিও ফিরে পেয়েছে নতুন রূপ। এ যেন নয়নাভিরাম অপরূপ দৃশ্য। সজনের শ্বেতশুভ্র পাপড়ির মাঝে যেন কবিরা খুঁজে পান নববধূর মূল্যবান অলংকার নাকফুলের মতো স্বর্ণালি শোভা, কিংবা তাক লাগিয়ে দেয়া কোনো পুষ্পরাজ্যের সুদর্শনা রমণী।
গাছে গাছে শ্বেতশুভ্র সবুজাভ সজনে ফুলের বাহারি সমারোহ হলেও একসময় ফুলগুলো ঝরে যাবে। রক্তচক্ষু কোনো রাজার চাবুকের মতো গাছে গাছে দুলতে থাকবে সজনের ডাঁটা, যা খাদ্যরসিকদের অনেক প্রিয় একটি খাবার।
শুধু স্বাদই নয়, বরং শীতের পর ঋতু পরিবর্তনের সময় এই সজনের চাহিদা বাড়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে। সবজি হিসেবে ব্যাপক চাহিদা থাকায় সজনে ধুনট উপজেলা তথা শ্যামল বাংলার অনেক চাষির জন্য আশীর্বাদ। যা শুধু উৎপাদন বা ফলনেই নয়, বরং বাণিজ্যিকভাবে অনেক কৃষিই এখন লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছে এই সজনে নামের এই সবজিতে। শুধু সবজিই নয়, সজিনা এমন একটি উদ্ভিদ যার পাতা, ফুল, ফল এমনকি বাকলও বেশ উপকারী। প্রচুর পুষ্টি ও ঔষধিগুণসম্পন্ন এই সজিনাকে পুষ্টির আতুরঘরও বলা হয়ে থাকে। সজিনা বসন্তের সবজি হলেও এটি এখন এলাকা ভেদে বারোমাসই
পাওয়া যায়।