জামায়াতের সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে দেড়যুগ পর স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আলমডাঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন হাট-বাজার ও স্থাপনার বাৎসরিক ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার পৌরসভা চত্বরে বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য এ ইজারা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এবারের ইজারায় মোট ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬১ হাজার ৫ টাকা দর ওঠে পৌরসভার ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল আলমডাঙ্গা পৌরসভা পরিদর্শন করেন। তিনি এ সময় বলেন, পৌর এলাকার রাস্তা-ঘাট ও ড্রেন নির্মাণে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। জনগণের টাকায় উন্নয়ন কাজে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তিনি জানান, পৌরসভার অধীনে থাকা বিভিন্ন হাট-বাজার ও প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন সুবিধাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভোগ করা হয়েছে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখন থেকে সব হাট ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেয়া হবে। সর্বোচ্চ দরদাতা ইজারা পাবেন।

মঙ্গলবার আলমডাঙ্গা হাট-বাজারগুলোর ইজারা কার্যক্রম শেষ হলে উপজেলার অনেকে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, বিগত বছরগুলোতে বিভিন্নভাবে নিকো করে ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। নব-নির্বাচিত এমপি অ্যাড. রাসেলের হস্তক্ষেপে হাটের ইজারাগুলো ওপেন টেন্ডার হওয়ায় সরকার শতভাগ রাজস্ব পেলো। এতে আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড আরও তরান্বিত হবে। এভাবে প্রতিটি সরকারি কাজ যদি স্বচ্ছতার সাথে টেন্ডার করা হয় এবং টেন্ডার শেষে কাজ বুঝে নেয়া হয় তাহলে উন্নয়ন একধাপ এগিয়ে যাবে। শক্ত হাতে যদি এগুলো দমন করা যায় তাহলে সরকারি অন্যান্য দপ্তরগুলো টেন্ডারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আসবে। নব-নির্বাচিত এম.পি রাসেলের এ উদ্যোগকে উপজেলাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া ইজারা কার্যক্রমে স্থানীয় ও বাইরের বিপুলসংখ্যক ইজারাদার অংশ নেন। গোপন ব্যালট পদ্ধতিতে দরপত্র গ্রহণ করা হয়। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ কার্যক্রম শেষ হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরো প্রক্রিয়া ছিল শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল।

ইজারা তালিকার মধ্যে আলমডাঙ্গা পৌর পশুহাট (গরুর হাট) সর্বো”চ ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় ইজারা প্রদান করা হয়, যা এ খাতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এছাড়া পুরাতন মোটরসাইকেল হাট ইজারা দেয়া হয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুটি খাত থেকেই আয়ের বড় অংশ এসেছে এবং উভয় ক্ষেত্রেই এটি রেকর্ড পরিমাণ দর। ইজারা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক পান্না আক্তার, শাহনেওয়াজ মেহেদীসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গোপন ব্যালট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে এবং সকল অংশগ্রহণকারীর জন্য সমান সুযোগ রাখা হয়েছে।

পৌর প্রশাসন জানিয়েছে, ইজারা থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব পৌর এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে ব্যয় করা হবে। রেকর্ড পরিমাণ এ আয় পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

পৌরবাসীর প্রত্যাশা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অর্জিত এ রাজস্ব যথাযথ পরিকল্পনা ও জবাবদিহির মাধ্যমে ব্যয় হলে আলমডাঙ্গা পৌরসভা আরও আধুনিক ও সেবাবান্ধব নগরীতে রূপ নেবে।