গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, একটি কাটার ও দুটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জিএমপি গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের এসআই (নিঃ) আবু বকর সিদ্দিক ও এএসআই (নিঃ) আলামিন হোসেনের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল কোনাবাড়ী থানাধীন দেওলিয়াবাড়ী এলাকার কোনাবাড়ী কলেজ গেইট সংলগ্ন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী সংঘবদ্ধ হয়ে ছিনতাই ও ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল-এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-মোঃ জিয়াউল খাঁন (২৬), মোঃ আলমগীর হোসেন (৩০), মোঃ আলামিন (২৬), মোঃ শাকিল (২২) ও মোঃ মাহাদী হাসান (২৫)। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে একটি কাটার ও দুটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জিয়াউল খাঁনের বিরুদ্ধে পূর্বে তিনটি চুরি মামলা এবং আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে একটি চুরি মামলা, একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা ও একটি ডাকাতি মামলা রয়েছে, যা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেয়। গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়ক এলাকায় সুযোগ বুঝে ছিনতাই ও ডাকাতির পরিকল্পনা করে আসছিল। তাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) অশোক কুমার পাল, পিপিএম জানান, ‘মহাসড়কে অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মৌলভীবাজার সংবাদাতা : ইদানিং মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেট কার দিয়ে গরু-ছাগল চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাইভেট কারে গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় কমলগঞ্জের নুরজাহান চা বাগান এলাকায় তিন চোরকে আটক করেছে এলাকাবাসী। আটককৃতরা হলেন- শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোতাব্বির হোসেন (২৫), আব্দুল আহাদ (৩০), জাকির হোসেন (২৮)। এসময় তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়। গ্রামবাসী জানান চোরেরা সাধারণত নির্জন রাস্তা বা গ্রামের ফাঁকা বাড়িগুলো টার্গেট করে। প্রাইভেট কারে দ্রুত এসে গরু বা ছাগল তুলে নিয়ে মুহূর্তেই এলাকা ত্যাগ করছে ফলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক জায়গায় সিসিটিভি না থাকায় চোরদের ধরাও সম্ভব হচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা জানান, এক রাতেই কয়েকটি বাড়ি থেকে গবাদিপশু চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে, যা তাদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং চোরচক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সন্দেহজনক কোনো কিছু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই চোরচক্রকে আইনের আওতায় এনে নিরাপত্তা জোরদার করা হোক, যাতে তারা স্বস্তিতে থাকতে পারেন।

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে আবারও জোরালো অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এবার ৫৯৫ পিস ইয়াবা ও নগদ অর্থসহ দুইজন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ র‌্যাব-১৩ এর গাইবান্ধা ও দিনাজপুর ক্যাম্পের যৌথ দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। ঢাকাগামী একটি নাবিল পরিবহনের বাসে তল্লাশি চালানোর সময় সন্দেহভাজন দুই যাত্রীকে আটক করা হয়। পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে প্যান্টের পকেটে লুকানো অবস্থায় দুইটি পলিপ্যাকেটে রাখা ৫৯৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় ৭২ হাজার টাকা, যা মাদক বিক্রির অর্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ঝালকাঠির রাজাপুর এলাকার মোঃ মহারাজ মীর (৪৫) এবং দিনাজপুরের কোতয়ালী থানার মোঃ সাহাদত হোসেন (৩৬)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাদক সংগ্রহ করে গাইবান্ধা ও আশপাশের জেলায় সরবরাহ করে আসছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) : ফুলবাড়ী উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কবির মামুদ (খেজুরের তল) এলাকার পাকা সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী থানা পুলিশের একটি দল সন্দেহভাজন একটি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে ৩ কেজি ৭শ’ ৯০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে। এ সময় অটোরিকশাটি জব্দ করা হয় এবং এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তার পাঙ্গাটারী গ্রামের মৃত আশরাফুল হকের ছেলে মো. জহির উদ্দিন (৪০)।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।

পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভয়নগর (যশোর) : যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় ইজিবাইক চোর সন্দেহে অজ্ঞাত এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নওয়াপাড়া মডেল স্কুল রোড সংলগ্ন ইজিবাক স্ট্যান্ডের ভাড়া করা জায়গা থেকে গত ৭ এপ্রিল বেলা আড়াইটার সময় অভয়নগর থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে। তবে কে বা কারা তাকে কখন বা কোথায় মারপিট করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভয়নগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ এস এম নুরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে ইজিবাইক চোর সন্দেহে স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে গেছে। সোমবার ইজিবাইক চুরির ঘটনায় শরিফুল নামের এক চালক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলো বলে জানিয়েছেন ওসি। তবে ঘটনাস্থলে কোন মারপিটের তথ্য স্থানীয়রা জানাতে পারেনি।

এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, ইজিবাইক চোর সন্দেহে ওই যুবককে সকালে নওয়াপাড়া বৌ বাজার এলাকা থেকে ধরে স্থানীয়রা ধোপাদী গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে মারপিটের পর মুমূর্ষু অবস্থায় থানায় নেয়ার পথিমধ্যে মারা যায়। তারা দ্রুত লাশ ইজিবাইক স্ট্যান্ডের ফাঁকা স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়।

ইসলামপুর (জামালপুর) : জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ভুট্টাক্ষেত থেকে জুয়েল শেখ (৩০) নামে এক অটোচালকের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সংগরপুর এলাকায় ভুট্টাক্ষেতে বস্তাবন্দী লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাইয়ুম গাজী জানান, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত জুয়েল শেখ মেলান্দহ উপজেলার পূর্বশ্যামপুর এলাকার আবু হানিফের ছেলে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।