স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলী করে হত্যার মামলায় গ্রেফতার মো. বিল্লালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও তিন দিনের রিমান্ড পাঠিয়েছে আদালত। এদিকে রিমান্ড শেষে দুই আসামী মো. আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানান।

গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী পাড়ায় হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে মুছাব্বিরকে গুলী করে মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদও গুলীবিদ্ধ হন। মুছাব্বির একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সম্পাদকও ছিলেন। আর মাসুদ তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ৮ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর ১০ জানুয়ারি ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুই শুটারের একজন জিন্নাত, মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল, ঘটনার পর আসামীদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির এবং ঘটনার আগেরদিন ঘটনাস্থল রেকি করা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সে সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকা-ের সময় ব্যবহৃত নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল এবং নগদ ৬ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। ১২ জানুয়ারি জিন্নাত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওইদিন দুই ভাই বিল্লাল ও আব্দুল কাদিরের সঙ্গে রিয়াজকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। সাত দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল সোমবার আসামীদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। বিল্লালকে সাত দিনের রিমানে নেওয়ার এবং অপর দুই আসামী আব্দুল কাদির ও রিয়াজকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে বিচারক তার আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।