মৌলভীবাজারের জুড়িতে জামায়াতের নেতাকমীদের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর ভাইসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে গাজীপুরের নির্বাচনী এজেন্টদের প্রশিক্ষণ শেষে বাসায় ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানায়,
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার শিলুয়া এলাকায় মঙ্গলবার জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা।
গতকাল বুধবার জুড়ী উপজেলায় পৃথক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠু এ ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলামের বড় ভাই আতিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এছাড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, শিবির নেতা তারেক ও আব্দুল্লাহ, এনসিপির এক নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত তিনজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত তারেক রহমান অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে দুজনকে ছুরিকাঘাত করে। এছাড়া দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আরও কয়েকজন আহত হন।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান দাবি করেন, বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠুর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানান।
ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাতে জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন জুড়ী থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মারুফ দস্তেগীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন চা-বাগান এলাকায় অর্থ বিতরণের চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। তার বিরুদ্ধে আনা হামলার অভিযোগ তিনি ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ জাল ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তোলেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে সকলকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর জানায়, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি বিসিক এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী এজেন্টদের প্রশিক্ষণ শেষে বাসায় ফেরার পথে গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর, শিরিন চাকলাদারের ছেলে পিয়াস এবং কোনাবাড়ি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, বাবুল হোসেনের ছেলে সালিমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর, মাহমুদুল হাসান (২৫), সেক্রেটারি, আক্তার হোসেন (৩০) ও কর্মী ফাহিম আনোয়ারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে আঘাত গুরুতর হওয়ায় স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহতদের সহকর্মীরা জানান, হামলাকারীরা আকস্মিকভাবে পথরোধ করে মারধর শুরু করে, এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে কোনাবাড়ি থানার ওসি, আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উভয় পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে দুই পক্ষ নিজেরা বসে আপস-মীমাংসায় উপনীত হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এলাকায় যেন পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নির্বাচনী সময়কে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও তৎপরতা ও নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।