রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সিলেটে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশের প্রত্যয়দীপ্ত সংগঠন দিশারী শিল্পীগোষ্ঠী। দিনব্যাপী জুলাই প্রদর্শনী শেষে সন্ধ্যার পর আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বক্তব্য, ইসলামী সংগীত, মঞ্চ নাটকসহ নানা আয়োজন উপস্থিত দর্শকশ্রোতাকে বিমোহিত করেছে।
শুক্রবার সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমী অডিটরিয়ামে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী জুলাই প্রদর্শনী। বাদ জুমআ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দিশারী শিল্পীগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ। প্রদর্শনীতে স্থান পায় বহুল আলোচিত সমালোচিত ডিবি হারুনের নামে ‘হাউন আঙ্কেলের ভাতের হোটেল’ থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনে শাহাদাতবরণকারী শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাব, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শহীদ রুদ্র সেন ছাড়াও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সিলেটের নানা দৃশ্য তুলে ধরা হয় রেপ্লিকার মাধ্যমে। একই সাথে প্রদর্শনীতে স্থান পায় জুলাই আন্দোলনে নগরীর আখালিয়া এলাকায় পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রদর্শনকারী এক খালার সেদিনের ক্ষোভের কঠিন কথাগুলো। স্থান পায় জুলাই আন্দোলনে সুনামগঞ্জে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হামলার দুর্বিষহ নানা স্থিরচিত্র।
দিনব্যাপী প্রদর্শনী শেষে শুক্রবার সন্ধ্যার পর শুরু হয় আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। দিশারী শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক আব্দুল হাদী চৌধুরী, সহকারী পরিচালক হাদি উন নাহিয়ান চৌধুরী ও মাসিহুর রহমান নাফির যৌথ ব্যবস্থাপনায় এবং দিশারীর সাবেক শিল্পী শাহনেওয়াজ চৌধুরী রাজিবের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ রাশেদ ইকবাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ তাজ উদ্দিন।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ সসাস-এর নির্বাহী পরিচালক এইচ এম আবু মুসা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান মোঃ আজরফ জাবুর। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন দিশারী শিল্পীগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে ‘বিসমিল্লাহ বলে আমি শুরু করি দিন-প্রতিদিন’ সংগীত পরিবেশন করে দিশারী শিল্পীগোষ্ঠীর শিশু বিভাগের ক্ষুদে মেয়ে শিল্পীরা। শিশু বিভাগের ক্ষুদে ছেলে শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘সততার গুণে যারা গুণী হয়’ সংগীতটি। দিশারীর সংগীত বিভাগের শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘বৈরী বাতাসে’ ও ‘আমাদের শহীদেরা’ নামের দুটি সংগীত। দিশারীর সাবেক শিল্পীগণ পরিবেশন করেন ‘আল্লাহকে যারা ভেসেছে ভালো’ সংগীত। একক সংগীত পরিবেশন করেন দিশারীর শিল্পী হিফজুর রহমান, তাওহীদুল ইসলাম তারেক ও রাশেদুল হাসান রাসেল। আবৃত্তি করেন জনপ্রিয় আবৃত্তি শিল্পী হাদি উন নাহিয়ান। অনুষ্ঠানে দর্শকদের ব্যাপক আনন্দ দেয় দিশারী শিল্পীগোষ্ঠীর মঞ্চ নাটক ‘শিশু বিশেষজ্ঞ’ ও ‘আক্কাস এখন ঝাক্কাস’।
অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, জুলাই বিপ্লব তরুণ প্রজন্মের বিস্ময়কর আবিষ্কার। জুলুম ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এই বিজয় শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বুকে নজির স্থাপন করেছে। বিপ্লবে শাহাদাতবরণকারী ও আহতরা জাতির শ্রেষ্ট সন্তান। যতদিন লাল সবুজের বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও গাজীদের জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। জুলাইকে ধারণ করে দিশারী শিল্পীগোষ্ঠীর এই ব্যতিক্রমী আয়োজন একটি মাইলফলক। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে দিশারী শিল্পীগোষ্ঠীর পথচলা আরো শানিত হবে।
সাদাপাথর প্রতিস্থাপন হলেও সৌন্দর্য ফিরে আসতে লাগবে সময় : পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে সাদাপাথর প্রতিস্থাপন হলেও সৌন্দর্য ফিরে আসতে লাগবে সময়। গেল কয়েক মাসে সিলেটের সাদাপাথর এলাকায় ব্যাপক লুটপাটে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্পট পরিণত হয় বিরানভূমিতে। পরে উদ্ধার হওয়া পাথর পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতি নিজে যা গড়ে তোলে, কৃত্রিমভাবে তা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে ইতিমধ্যে এ পর্যটন এলাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক পর্যটকরা আসছেন।
পর্যটকরা বলছেন, এখনো আগের জৌলুশ ফিরে পায়নি সাদাপাথর। তারা দাবি তুলেছেন, পরিকল্পিতভাবে পাথর প্রতিস্থাপন ও স্পটটির পূর্ণাঙ্গ রূপ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন আর লুটপাট না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। পরিবেশবিদরা মনে করেন, শুধু পাথর প্রতিস্থাপন নয়, বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমেই এ উদ্যোগ সফল হতে পারে।
একই সঙ্গে তারা দ্রুত সাদাপাথর এলাকাকে পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইকো-ট্যুরিজমের জন্য মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কথাও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন। সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম জানিয়েছেন, পরিবেশবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয় করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া সাদা পাথরের সৌন্দর্য রক্ষা সম্ভব নয়।