টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : টেকনাফের মাদক দুর্বৃত্তরা এবার নেমেছে পাহাড় দখল ও কাটার মহোৎসবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দক্ষিণ কানজর পাড়া এলাকার পশ্চিমে সরকারি মালিকানাধীন পাহাড় কাটা হচ্ছে।
জানা গেছে, ট্রলি আমিনের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং অতীতে কয়েকবার ইয়াবাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকও হয়েছে। তবে এসব মামলার পরও কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার মতো গুরুতর অপরাধে যুক্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পাহাড় কাটার টাকা আবার বিনিয়োগ হচ্ছে ইয়াবা কারবারে। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে মাদকচক্র আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, পাহাড় কাটার ফলে শুধু প্রকৃতি নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাপনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, পাহাড় কেটে মানুষের চলাচলের পুরনো পথও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধদের দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম এলেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। পাহাড় কেটে দুর্বল হয়ে পড়া মাটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয় প্রতিবেশীদের।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা সভাপতি এইচ এম এরশাদ বলেন, টেকনাফের পাহাড় কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অংশ নয়, এটি পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পাহাড় কেটে ফেললে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু এসব বিষয় উপেক্ষা করেই অব্যাহত রয়েছে পাহাড় ধ্বংসের এই মহোৎসব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ট্রলি আমিন একজন পরিচিত ইয়াবা কারবারী। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে, সে ইয়াবাসহ প্রশাসনের হাতে ধরাও পড়েছে একাধিকবার। কিন্তু এখন সে পাহাড় কেটে আমাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে। কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়। আমরা সাধারণ মানুষ চুপ থাকা ছাড়া উপায় দেখছি না।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, পাহাড় কাটা মানে শুধু মাটি কাটা নয়, এটা আমাদের ভবিষ্যৎ কাটা। কিন্তু প্রশাসনের কেউ যেন দেখছেও না।
সচেতন মহলের দাবি, টেকনাফে মাদক কারবারীরা এখন বহুমুখী অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি পাহাড় দখল, বন উজাড় ও ভূমি বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রভাব আরও বাড়াচ্ছে। এই চক্র ভাঙতে না পারলে টেকনাফ পুরোপুরি অপরাধ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইন অনুযায়ী সরকারি পাহাড় ও বনভূমি কাটা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বন আইনে গুরুতর অপরাধ। এসব অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আইন প্রয়োগের দুর্বলতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে বলে মনে করছেন তারা।