শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিবালয়ের আমডালা বাজার সংলগ্ন ইছামতি নদী এলাকায় একটি ব্রীজ না থাকায় আমডালা বাজার এলাকা, কয়ড়া, পাইপাড়া, আরপাড়া, কাশাদহ, উত্তর কাশাদহ,চর আমডালাসহ আশেপাশের ৯টি গ্রামের প্রায় ২০ সহাস্রাধিক লোকজনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আশে-পাশের ৯টি গ্রামের প্রায় ২০ সহাস্রাধিক লোকজনের যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জানাযায়,ষাটের দশকে আমডালা বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই ইছামতি নদীটি শিবালয ও পার্শবর্তী হরিরাম উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষাধিক লোকজন যাতায়াত ও ব্যবসা-বানিজ্যের জন্য নৌরুট হিসেবে ব্যবহার করত। তখন মালামাল ও যাত্রী পরিবহনের জন্য এ নদীতে ছোট-বড় ও মাঝারি ধরনের শত শত নৌকা চলাচল করত । আশির দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত নিরাপদ ও যাতায়াত সুবিধার কারণে লোকজন ও ব্যবসায়ীগণ ইছামতি নদীর এই নৌরুটে জাফর গঞ্জ নদী বন্দর, ঘিওর হাট, উথলী হাট, আলী হাট, রুপসা হাট-বাজার, নয়াকান্দি বাজার, মাচাইন হাটসহ পার্শ্ববর্তী হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা হাটে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন করত।
এরপর বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে সড়ক পথের উন্নতি সাধিত হওয়ায় মালামাল ও পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবসায়ীরা সড়ক পথকে বেছে নেওয়ায় এই নৌরুটের ভাটা পড়ে। ইছামতি নদীর এই নৌরুটটি দিযে মালামাল কিম্বা যাত্রী পরিবহন না হওয়ায় এ নদীর কদর কমে যায়। এরপর নদীটি আর সংস্কার না হওয়ায় নদীটি মরে যায়। নাব্য সংকটের কারণে গত ১৫ বছর যাবত এই নদীতে বর্ষা মৌসুমে প্রচুর পানি থাকলেও গ্রীস্ম বা শুকনো মৌসুমে কোথাও কোথাও ১/৫ ফুট আবার কোথাও কোথাও ৩/৪ ফুট পানি থাকে। ফলে এলাকার ব্যবসায়ী কিম্বা সাধারণ লোকজন বর্ষা মৌসুমে নদীটি খেয়ায় পার হলেও শুকনো মৌসুমে নদী পারাপারের ক্ষেত্রে আমডালা, কয়ড়া, পাইপাড়া, আরপাড়া, কাশাদহ, উত্তর কাশাদহ, চর আমডালাসহ আশেপাশের ৯ টি গ্রামের প্রায় ২০ সহাস্রাধিক লোকজনের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
এলাকাবাসী নদীটি পারাপারের জন্য আমডালা, কয়ড়া, পাইপাড়া, আরপাড়া, কাশাদহ, উত্তর কাশাদহ, চর আমডালা সহ আশেপাশের ৮/৯টি গ্রামের লোকজনের সহযোগিতায় আমডালা বাজার এলাকায় ইছামতি নদীতে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে কোন রকমে নদী পরাপার হলেও মালামাল ,পণ্য কিম্বা কোমলমতি ছোট ছোট শিশু-বৃদ্ধ ব্যক্তিদের নদী পার হতে নানা বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয়। আমডালা বাজারে রয়েছে একটি ভূমি অফিস, প্রাথমিক বিদ্যালয়,স্বাস্থ্য ক্লিনিক, একটি ব্যাংক, মসজিদ ও একটি মক্তব খানা। মানুষের প্রতিদিনের নিত্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়, কোমলমতি ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের লেখাপড়া,আত্মীয়-স্বজনের বাড়ীতে যাতায়াতে আমডালা বাজার এলাকার এই নদীটি পারাপারের গুরুত্ব অপরীসীম।
আমডালা বাজার এলাকার পল্লী চিকিৎসক ডাক্তার এ কে এম বদর উদ্দিন হাবিল দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, গত এক বছরে এ বাঁশের সাঁকো পারাপার হতে গিয়ে ৫ জন বৃদ্ধ ও ১২ জন শিশু-কিশোর আহত হয়।এদে র মধ্যে ২ জনের অবস্থা হয়েছিল আশংকাজনক। বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়া শিশু-কিশোরদের জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে ।
আমডালা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ নুরুল আমিন বেপারী দৈনিক সংগ্রামকে জানান,প্রতিটি জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীগণ এ ব্রীজটি নির্মাণের ব্যাপারে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদায় নেন। নির্বাচনের ব্রীজ নির্মাণ করা দূরের কথা তাদের আর দেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়না।
আমডালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার শর্মা জানান. আমরা আমডালা বাজার এলাকায় একটি ব্রীজের জন্য মানিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানিয়েছি । তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।