ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত ‘গণভোট ও অধ্যাদেশ: ছাত্রনেতৃত্বের ভূমিকা’ শীর্ষক সংস্কার আলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৩০টায় পবিত্র কুরআন থেকে তেলোয়াতের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রাঙ্গণে সংস্কার আলাপের তৃতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্র সমাজের আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল আজিজ ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান প্রমুখ।
সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে কোনো গাদ্দারি করা চলবে না। এই অভ্যুত্থানের পর বহু রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল; কোথাও কোথাও ভিন্নমত থাকলেও তা আলোচনার মধ্যেই ছিল। কিন্তু আজ আমরা দেখছি, বিএনপি আবারও অতীতের ভুলের দিকেই এগোচ্ছে। আমরা আহ্বান জানাইÍসংস্কারগুলো সম্পন্ন করুন। সংস্কার হলে আপনাদেরই ক্ষতি নেই; বরং সবাই মিলে দেশ গড়ার পথ সহজ হবে। কিন্তু সতর্ক করে বলতে চাইÍযদি জনমত উপেক্ষা করা হয়, তাহলে আবারও ছাত্রসমাজ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামবে।’
নাজমুল হাসান বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ২৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে ঐকমত্যে স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সরকার গঠনের পর তারাই সেই ঐতিহাসিক দলিলকে উপেক্ষা করছে। অথচ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ পরিবর্তন ও গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমরা দাবি জানাই, ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্যভিত্তিক অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করতে হবে।’
জাহিদ আহসান বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘তিনি বলেছেন সংবিধান “সংস্কার” বলে কিছু নেই। অথচ বিএনপির নিজস্ব ৩১ দফার প্রথম দফাতেই “সংবিধান সংস্কার কমিশন”-এর কথা বলা আছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠেসত্য বলছে কে, সালাহউদ্দিন আহমেদ, নাকি বিএনপির ঘোষিত নীতি? গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের যে জনমত প্রকাশ পেয়েছে, তা অস্বীকার করা হচ্ছে। এটি শুধু জনগণের রায় অমান্য নয়, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষারও অবমূল্যায়ন।
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘যে বিএনপি কিংবা বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি ছিল, সেই আকাঙ্ক্ষার দল আজ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী দেড় বছরে সারাদেশে বিএনপির চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগের কারণে জনগণের প্রত্যাশা ভেঙে গেছে। আমরা আশা করেছিলাম তারেক জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সেই আকাঙ্ক্ষা ধারণ করবে, কিন্তু আজ মনে হচ্ছে দলটি তাদের হাতেও পুরোপুরি নেই; বরং ভেতরে ভিন্ন প্রভাব ‘ডিপস্টেট’ ও প্রেসক্রিপশনে ধরনের খেলা চলছে। এ ধরনের প্রেসক্রিপশনের রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলতে পারে না, চলতে দেওয়া হবে না।
ডাকসু ভিপি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা যে সংস্কারের কথা ১৬ বছর ধরে বলেছেন, ৩১ দফায় যেসব মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা ও সাংবিধানিক সংস্কারের কথা ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের দিকে যান। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, পিএসসি ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের মতো প্রস্তাব আপনাদেরই দেওয়া। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে দ্বিচারিতা ও জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনশন নিয়ে উপহাস করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই না কোনো রাজনৈতিক শক্তি আবার ফ্যাসিবাদী ধাঁচে ফিরে যাক। তাই শহীদদের আকাক্সক্ষা ও জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। তাই কালক্ষেপন না করে গণভোটের রায়কে মেনে নিয়ে জনগণের আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করুন।’
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এম এম আল মিনহাজ, কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির ও রাইসুল ইসলাম।
আলোচনা শেষে আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথিবৃন্দের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম সহ ডাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।