সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও রুট নির্ধারণ আটকে আছে কাগজে কলমেই। এ জন্য জনবল সংকটকে দায়ী করছেন কর্তৃপক্ষ। ৫ আগস্টের পর থেকে দুই দফায় উদ্যোগ নেয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ আর কিছু অভিযানেই থেমে আছে উদ্যোগ। ফলে নগরবাসির ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। বাড়ছে দুর্ঘটনা।
জানা যায়, গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে ইজিবাইক প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর শুরু হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে। গেল মাসে একই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও তা আর হয়নি। আর এ ক্ষেত্রে কেসিসি ও কেএমপির ট্রাফিক বিভাগ পরস্পরকে দায়ী করছেন। সম্প্রতি কেএমপি বৈধ লাইসেন্সধারী আট হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
নাগরিক নেতারা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে অপরিকল্পিতভাবে তিনচাকার ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের অনুমতি দেয়া হয়েছে। শহরের পরিধি, লোকসংখ্যা, চালকদের গাড়ি চালানোর যোগ্যতা, লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে বয়সের সীমার কথা বিবেচনায় না নেয়ার কারণে শহর ও নগরবাসিকে এই ভোগান্তি মেনে নিতে হচ্ছে। শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত ইজিবাইকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। কেসিসি সূত্র জানায়, ২০২০ সালে প্রথমবার যাত্রীবাহী ৭ হাজার ৮৯৭টি ইজিবাইককে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। ২০২২ আরও ১ হাজার ৭৯২টি পণ্যবাহী ইজিবাইক চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। অথচ নগরীতে ইজিবাইক চলাচল করে প্রায় ২০ হাজার। অতিরিক্ত ইজিবাইকের কারণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানজট লেগেই থাকে। একাধিকবার ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিলেও কাজ হয়নি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরে কোন কাজ থাকলে লম্বা সময় নিয়ে বের হতে হয়। গল্লামারী পার হতেই আধা ঘন্টা সময় লেগে যায়। ময়লাপোতা মোড়েও একই অবস্থা। দ্রুত এর অবসান চাই।