পাবনার কাশীনাথপুরের সবুজে ঘেরা মনোরম বাগানবাড়ির আম্রকাননে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকাস্থ সুজানগর-বেড়া উপজেলা উন্নয়ন ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী।
রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলা এ অনুষ্ঠানে সুজানগর, বেড়া ও আমিনপুর থানা এলাকার বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ, পরিবার-পরিজনসহ অংশগ্রহণ করেন। ঈদ-পরবর্তী এই মিলনমেলা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক যোগাযোগের এক প্রাণবন্ত কেন্দ্রে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদি-আটঘরিয়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-১ ( সাঁথিয়া ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বিশিষ্ট আইনজীবী ড. ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।

সুজানগর উপজেলা জামাতের আমির অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন সভাপতিত্বে সাংবাদিক আব্দুর রব এর সঞ্চালনায় এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনা জেলা জামাতের নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন এবং সেক্রেটার অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পাবনা জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ , এস এম সোহেল, সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোখলেছুর রহমান, বেড়া উপজেলা আমির মাওলানা আতাউর রহমান, বেড়া আলহেরা একাডেমীর সাবেক প্রিন্সিপাল মকসুদ আলম চৌধুরী, ঢাকাস্থ সুজানগর -বেড়া উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি মিজানুর রহমান,বিশিষ্ট ব্যাংকার আব্দুর রহমান, পাবনা পৌর জামায়াতের সাবেক আমির আবিদ হাসান, সুজানগর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ফারুকী আজম এবং বেড়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন,প্রেসক্লাব পাবনার সেক্রেটারি রফিকুল আলম রঞ্জু, পাবনা জেলা জামায়াতের বাইতুলমাল সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল মমিন, দৈনিক শহর ও গ্রাম সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ নাজমুল হোসাইন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সংগঠক শোয়েব আক্তার, পাবনা পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক জাকির হোসেন সহ সুজানগর বেড়ার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, ঈদের এই পুনর্মিলনী শুধু সৌহার্দ্য বিনিময়ের অনুষ্ঠান নয়, বরং সংগঠনকে নতুনভাবে গুছিয়ে সামনে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না আসার পেছনের কারণগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে এবং বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আরো বলেন, আগামী দিনে পরিকল্পনা গ্রহণ করে ২৫ বছরের কাজ পাঁচ বছরের মধ্যে করতে হবে। এজন্য মাঠের সকল পর্যায়ে কাজ করতে হবে, যাতে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী মজবুত হয়।
তিনি আরও বলেন, সাবেক আমিরে জামায়াত শহীদ মতিউর রহমান নিজামীর -এর আদর্শ ধারণ করে আত্মত্যাগ, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আগামী দিনের পথচলা নিশ্চিত করতে হবে। সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে ভবিষ্যতের বিজয় আমাদেরই হবে।
বিশেষ অতিথি ড. ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে হলে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সামনে রেখে কাজ করলে সংগঠন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে। তিনি নেতাকর্মীদের মধ্যে আদর্শিক চেতনা আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান সময়ে সাংগঠনিক ঐক্য, জনসম্পৃক্ততা ও আদর্শিক প্রশিক্ষণই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সাফল্যের প্রধান ভিত্তি।
অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান বলেন, তৃণমূলের কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো আন্দোলন সফল হয় না।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে পাবনা অনির্বাণ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক শিল্পগোষ্ঠী-এর শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। ইসলামী সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান এবং সমবেত পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা অতিথিদের জন্য হালকা নাস্তার ব্যবস্থা করেন এবং অনুষ্ঠান শেষে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও প্রবীণদের অংশগ্রহণে পুরো বাগানবাড়ি এক আন্তরিক মিলনমেলায় রূপ নেয়।