ডিবি পরিচয়ে কমান্ডো স্টাইলে সাকী এন্টারপ্রাইজ নামে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আউটলেটের ইনচার্জসহ দুইজনকে অপহরণ করে ১৮ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে ৬-৭ জনের একদল ডাকাত। রাজধানীর ডেমরা এলাকায় ১২ দিন আগে এ ঘটনা ঘটলেও কাউকে গ্রেফতার এবং লুন্ঠিত টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার বাদি সাকী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, দুই আসামীর ছবি, এনআইডি ও মোবাইল নম্বরসহ পুলিশের কাছে তথ্য থাকলেও আসামী গ্রেফতার ও টাকা উদ্ধার না হওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন। গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের জন্য মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে হুমায়ুন কবীর লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৪ মে দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজধানীর ডেমরায় ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের (সাকী এন্টারপ্রাইজ) বড়ভাঙ্গা আউটলেট থেকে ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন ও অফিস সহকারী রূপন হোসেন ১৮ লাখ টাকা নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের স্টাফ কোয়াটার উপ শাখায় জমা দেয়ার জন্য বের হয়। তারা রসূল নগর মোড়ে পৌঁছলে ৬-৭ জন ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারী ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা থামিয়ে আনোয়ার হোসেন ও রূপন হোসেনকে নামিয়ে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এরপর মারধর করে এবং তাদের কাছে থাকা দুটি ব্যাগে ১৮ লাখ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যায়। ৬-৭ জন ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারীর মধ্যে একজনের নাম ওমর ফারুক । ওমর ফারুককে সনাক্ত করেন আনোয়ার হোসেন। ওমর ফারুক ঘটনার দিনে দুপুর আনুমানিক একটার দিকে বড়ভাঙ্গা আউটলেটে এসে পর্যবেক্ষণ করে টাকার তথ্য বাইরে পাচার করে। যা সিসিটিভি রেকর্ডে রয়েছে। পরবর্তীতে মাইক্রোবাসটি বড়ভাঙ্গা বোর্ড মিল হয়ে চিটাগাংরোড মদনপুর লাঙ্গলবন্দ নামক স্থানে পৌঁছলে এবং ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন ও অফিস সহকারী রূপন হোসেন কে হাত বাঁধা অবস্থায় ফেলে দেয়া হয়।
গতকাল সোমবার হুমায়ুন কবীর জানান, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে দুই আসামীকে সনাক্ত করা হলেও এতদিনেও কোনো আসামী গ্রেফতার এবং টাকা উদ্ধার না হওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। তিনি পুলিশের তদন্ত থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। যেহেতু ডিবি পরিচয়ে এবং ডিবির কটি পরে ডাকাতরা টাকা লুট করেছে তাই মামলাটি ডিবির দ্বারা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।