হপাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা : খুলনার পাইকগাছায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি চিংড়ি ঘের জবরদখল ও ঘের মালিককে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক তাঁতীদল নেতাসহ প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
গতকাল রবিবার সকালে পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত কালিপদ বিশ্বাস ও অরুণ কুমার মন্ডলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গৃহবধূ শম্পা সানা।
অভিযোগের বিবরণ ও জবরদখল : সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, শনিবার রাতে একদল দখলবাজ চক্র উপজেলার স্মরণখালী মৌজার ১৬ বিঘা এবং লস্কর মৌজার আড়াই বিঘা জমি জবরদখল করে নেয়। অভিযুক্তদের মধ্যে প্রধান হিসেবে উপজেলা তাঁতীদলের সভাপতি শিমুল তাওয়ালী এবং লস্কর গ্রামের আজিজুল গাজীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, জবরদখল করার সময় তারা অরুণ মন্ডলের ঘেরের বাসা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ঘের কর্মচারী রেজাউল ইসলাম বলেন, “অভিযুক্তরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে, যাতে আমাদের প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।”
বৃদ্ধ ঘের মালিকের ওপর হামলা : ৭৫ বছর বয়সী ভুক্তভোগী কালিপদ বিশ্বাস কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন: “আমি বৃদ্ধ মানুষ, এই ঘেরটিই আমার সম্বল। তারা যখন আমার ঘের দখল করতে আসে, আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আজিজুল গাজী আমাকে বেধড়ক মারপিট করে সরিয়ে দেয়। এখন তারা আমাকে ঘেরের আশেপাশেও যেতে দিচ্ছে না। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা : ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তারা স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার পাননি। সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে অবিলম্বে এই দখলবাজি বন্ধ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি : অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে উপজেলা তাঁতীদলের সভাপতি শিমুল তাওয়ালীর এবং আজিজুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।