খুলনায় আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সময় ২ আসামীকে গুলী করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন- খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের ইজাজ শেখের ছেলে ফজলে রাব্বি রাজন এবং মহানগরীর নতুন বাজার চর মসজিদ গলির বাসিন্দা মান্নাফ হাওলাদারের ছেলে হাসিব হাওলাদার। এদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক সম্পৃক্তার অভিযোগ রয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মেইন গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনেই খুলনা সার্কিট হাউজের অবস্থান। জনাকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্যের উপস্থিতির মধ্যে এমন লোমহর্ষক হামলার ঘটনায় জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনের সড়কে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতে ও রাস্তায় ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে রয়েছে। রয়েছে এক রাউন্ড গুলী ও একটি চাপাতি। পাশেই দুটি মোটর সাইকেল ফুটপাতের সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা ঘটনাস্থলটি নিরাপত্তা টেপ দিয়ে ঘিরে রেখেছে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণীতে জানা যায়, হতাহত হওয়া দুই ব্যক্তি মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন। হাজিরা শেষে বের হয়ে মেইন রোডে আসা মাত্রই আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ৩/৪ জন তাদেরকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলী করে। একজনের মাথায় গুলী লাগলে সে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। তার মাথা থেকে ঘিলু বের হয়ে যায়। এরপর আততায়ীরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার সময় আদালত ভবনের তৃতীয় তলা থেকে একজন দেখতে পান গুলী ও কুপিয়ে জখম করার পর ৩/৪ জন ব্যক্তি দৌড়ে বন বিভাগের অফিসের দিকে চলে যাচ্ছে। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, একটি মামলায় হাজিরা দিতে ৬জন এসেছিলেন। চারজনের জামিন না মঞ্জুর হয়। দুই জন জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসামাত্রই মেইন রোডের ওপর হামলার শিকার হন।
স্থানীয়রা বলেন, জামিনে থাকা দুই আসামী হাজিরা শেষে খুলনা মহনগর আদালত থেকে বের হলে দুর্বৃত্তরা এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলী করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহত হাসিবের ভাই শাকিল হাওলাদার বলেন, কিছুদিন আগে তার ভাইয়ের নামে একটা অস্ত্র মামলা হয়। সেই মামলায় হাজিরা দিতে রোববার আদালতে এসেছিলেন তার ভাই।
এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান বলেন, দুর্বৃত্তরা আদালত এলাকায় গুলী করে দুইজনকে হত্যা করেছে। তবে কি কারণে এই হামলা এবং কারা জড়িত বা খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে। পুলিশ জানায়, রাজনের নামে ৬টা মামলা আছে। হাসিবের নামেও একাধিক মামলা আছে। দুজনই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগী। তারা সোনাডাঙ্গা থানায় একটি অস্ত্র মামলার আসামী ছিলেন।