বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মানব সভ্যতা গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অন্যায় আক্রমণ বিশ্বব্যাপী সংকট আরো বৃদ্ধি করেছে। এই সংকট থেকে মানবতাকে রক্ষার জন্য রমযানের শিক্ষার আলোকে তাকওয়া গুণে গুণান্বিত হতে হবে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, গণহত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও মানবিক বিপর্যয় যেমন উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, তেমনি জাতীয় পর্যায়েও নৈতিক অবক্ষয়, সহিংসতা, অন্যায়-অনিয়ম ও সামাজিক অস্থিরতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

গতকাল সোমবার সকালে কক্সবাজারের কালারছাড়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত তৃণমূল নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শক্তির দাপট ও স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবতা আজ বিপন্ন। একইভাবে দেশব্যাপী খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেটভিত্তিক অপরাধ সমাজের ভিত নড়বড়ে করে দিচ্ছে। এসব অন্যায় ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে রমযানের শিক্ষা থেকেই নৈতিক শক্তি অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, পবিত্র মাহে রমযান তাকওয়া অর্জন, আত্মসংযম ও নৈতিক শুদ্ধতার এক অনন্য সুযোগ। রমযানের শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

ড. হামিদ আযাদ আরও বলেন, রমযান আমাদেরকে ধৈর্য, ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধের শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমেই পরিবারে সৌহার্দ্য, সমাজে মানবিকতা এবং রাষ্ট্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি পরিবারকে নৈতিক শিক্ষার প্রথম কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের ভিত্তি পরিবার থেকেই শুরু হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক বৈষম্য ও অন্যায়-অনিয়ম প্রতিরোধে রমযানের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাইকে একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

মতবিনিময় সভায় ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. আবু হেনার সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাকের হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুল ইসলাম, মহেশখালী উপজেলা উত্তর আমীর মাস্টার নজরুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।