জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা সড়ক-মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত নির্বাচনী প্রচারণার বিলবোর্ড নিজ উদ্যোগে অপসারণ করেছেন। এর সাথে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি বিভিন্ন ওয়ালে অঙ্কিত বিভিন্ন গ্রাফিতি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়া হয়।একই সঙ্গে গাজীপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীও অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করে নির্বাচনী শালীনতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
গাজীপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হোসেন আলী বলেন, নির্বাচন মানে শুধু ভোটের প্রতিযোগিতা নয়, বরং আইন মেনে, শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনগণের আস্থা অর্জন করা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা নিজেরাই বিলবোর্ড সরিয়ে নিয়েছি, যাতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত হয়।
গাজীপুর-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ খায়রুল হাসান বলেন, জামায়াতে ইসলামী সব সময় আইন ও নৈতিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রচারণা সামগ্রী অপসারণের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে চাই—জনগণের কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তব কাজের মাধ্যমেই তুলে ধরা হবে।
গাজীপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মানা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি রাজনৈতিক শালীনতারও অংশ। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, সংঘাতমুক্ত ও সমান সুযোগের নির্বাচন, যেখানে জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে।
গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, প্রচারণার নামে পরিবেশ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা আমাদের রাজনীতির অংশ নয়। তাই আইন মেনে বিলবোর্ড অপসারণ করে আমরা একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চাই—পরিবর্তনের রাজনীতি শৃঙ্খলা দিয়েই শুরু হয়।
গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এস আলম বকশী বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু বিশৃঙ্খলা নয়। আচরণবিধি মানার মধ্য দিয়েই জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব।
অন্যদিকে গাজীপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি নিজ উদ্যোগে তার নির্বাচনী বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের ঘোষণা দেন এবং তা বাস্তবায়নে মাঠে নামেন। তিনি জানান, দলীয় নেতাকর্মীরা যেসব স্থানে প্রচারণা সামগ্রী স্থাপন করেছিলেন, সেগুলো তিনি নিজেই অপসারণ করবেন। রোববার বিকাল ৩টায় টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকা এবং রোব বিকাল ৪টায় গাজীপুরের রাণী বিলাসমণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাই একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিকের পরিচয়। নির্বাচনকে সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্য করতে আমি নিজেই বিলবোর্ড অপসারণ করছি। পাশাপাশি মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় আঁকা পুরোনো বা মুছে যাওয়া গ্রাফিতি নতুনভাবে অঙ্কনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ইতিহাস ও গণআন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে।
নিজ উদ্যোগে বিলবোর্ড অপসারণের এই দৃশ্য সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ গাজীপুরে নির্বাচনী পরিবেশকে আরও ইতিবাচক, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সহনশীল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।