খুলনা ব্যুরো : খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বারোআড়িয়া বাজারের দুটি খেয়াঘাট এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। খেয়া পারাপারে সাঁকো’র ব্যবহৃত বাঁশ অনেক পুরাতন হওয়ায় ঘটছে দুর্ঘটনা। ঘাট দুটি হলো বটিয়াঘাটা উপজেলার রায়পুর-বারোআড়িয়া ও ফুলবাড়ি-বারোআড়িয়া। ঘাট দুটি পারাপারে সব থেকে বেশি দুর্ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছে মোটর সাইকেল চালকরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর এ সব ঘাট থেকে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করছে। অথচ যাত্রী সেবা বলতে কিছু নেই। ঝুঁকি ও অনিয়মের বিষয়টা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় ফুলবাড়ী ও বারোআড়িয়া এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় নেই।”

বারোআড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আব্দুর রহিম, এ এস আই মো. হেনায়েত হোসেনসহ একাধিক পুলিশ সদস্যরা বলেন, “প্রতিদিন আমাদের পেট্রোল ডিউটিতে যাওয়ার সময় গাড়ি পারাপারে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার কথা কি বলবো, নদীতে ভাটার সময় গাড়ি খেয়ায় উঠানো খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। অনেক সময় গাড়ি নদীতে পড়ে যায়।

সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন লিটু বলেন, বারোআড়িয়া-রায়পুর খেয়াঘাটের উন্নয়নকল্পে প্রায় তিন বছর পূর্বে ইটের রাস্তা বাবদ ২ লাখ টাকা এবং বাশের সাঁকো নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বাঁশগুলো অনেক পুরাতন হওয়ায় যাত্রীদের চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

ঘাটের মাঝি তরিকুল ইসলাম ও বদরুজ্জামান বলেন, “ঘাট মালিকরা সময় মত বাঁশের সাঁকো সংস্কার না করায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন।”