কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে কলারোয়া উপজেলা কুল চাষের ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। আর এখানকার কুল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে। এখানকার মাটি ভালো তাই কুলগুলো খেতে খুব সুস্বাদু। এই কুল চাষ করে এলাকার চাষিরা আথনৈতিক ভাবে সাবলম্বী। যার কারণে চাষিরা অন্য ফসলের চেয়ে কুল চাষে ঝুঁকে পড়েছে। কুল বিক্রি করে তারা লাভবান হচ্ছে। তাই চাষিরা ধানের জমিতে কুল চাষ করছে।

ইতিমধ্যে কলারোয়ার বিভিন্ন এলাকার বাগান থেকে কুল উঠানো শুরু করেছেন চাষিরা। আর এ গুলো পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলায় বেশ কয়েকটি কুলের বাজার রয়েছে। এর মধ্যে সিংগারমোড় ও বেলতলা বাজার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। মৌসুমে এই দুইটি বাজার থেকে প্রতিদিন শতশত কার্টুন ভর্তি কুল পিকআপ ও ট্রাক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। তা থেকে চাষিরা তাদের কষ্টে অর্জিত অর্থ ঘরে আসতে শুরু হয়েছে। এভাবে প্রতি মৌসুমে বাজার গুলোতে কুল বেচাকেনা হয়ে থাকে। এতে করে এলাকার চাষিরা আথনৈতিক ভাবে সাবলম্বী হয়ে উঠেছে ।

এদিকে কুল পরিপক্ক হতেই চাষিদের চোখে মুখে আনন্দ উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন তারা কুল ভাংগার উৎসবে মেতে ওঠেছে। প্রতিদিন ভোর থেকে মাঠে মাঠে কৃষাণ কৃষাণির পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। কুল ভাংগার পর কার্টুন ভর্তি করে বাজারে তোলে। চালান করে গাড়িতে তুলে দিয়ে চাষিরা এদিনের মতো বাড়িতে চলে আসে। এভাবে তাদের কাজ কুলের মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে। আর এই এ কাজে শ্রমিকদের কদর সবচেয়ে বেশি। যার কারণে স্থানীয় গ্রামবাসী নারী -পুরুষ, ছেলে- মেয়ে একসাথে এই কাজ করে থাকে। এতে করে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে এলাকার চাষি ও সাধারণ গরীব অসহায় মানুষ শ্রম দিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী হয়ে উঠছে।

কলারোয়া উপজেলার অধিকাংশ মাঠে কুল চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে সিংগারমোড় সংলগ্ন মাঠ, কাজিরহাট এলাকায় আটুলিয়া ও ধানঘোরা মাঠের নাম উল্লেখ করা যায়। উপজেলার ধানঘোরা গ্রামের চাষি ইবাদ বলেন, আমি এবার ৫ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছি। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। সিঙগা গ্রামের চাষি মাহমুদুল্লাহ জানান ,আমার এবার ৭ বিঘা জমিতে কুল আছে। গত বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছে।

কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ মোঃ এনামুল হক জানান, এবার উপজেলায় কুল চাষ হয়েছে ৪৭২ হেক্টর জমিতে। সাধারণত এই উপজেলায় বিভিন্ন জাতের কুল চাষ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে এবার চাষ হয়েছে বলসুন্দরী, থাই আফেল, টককুল ও নারিকেল কুল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে । এবার চাষিরাও ভালো দাম পাচ্ছেন।