মাগুরা শহরে মাগুরার অলিগলি থেকে শুরু করে ওরা দাপিয়ে বেড়ায়। ব্যাটারি চালিত এ বাহন। মাগুরার সবখানেই দৃশ্যমান ব্যাটারি চালিত রিকসা ও ইজিবাইক, নেই কোন গতিসীমা এ বাহন গুলোতে। ট্রাক,বাস, সাইকেলের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলতে দেখা যায় বিপজ্জনক এ বাহনগুলোকে।

মাগুরা শহরের ভায়না মোড়ে, নতুন বাজার ব্রীজের সামনে, পারনান্দুয়ালী বেপারী পাড়া ,মাগুরা পূর্ব পাড়া, শুভেচ্ছা স্কুলের সামনে সারি সারি ব্যাটারি চালিত রিকসা।

যাত্রী দেখলে শুরু হয় হাক ডাক। কার আগে কে যাত্রী উঠাবে এ নিয়েও প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এ দৃশ্য সকাল থেকে রাত অবধি নজরে পড়ে মাগুরা শহর বাসীর। এস নজরে পড়ে মাগুরা সব ইজিবাইকের দাপটে রাস্তায় এতটুকু যায়গা থাকে না পথচারীদের চলাচলের জন্য। একসময় ভ্যান চালাতো রিপন (৩৮)।

একইসাথে শহরের ভাড়াটেদের কারো বাসা বাড়ি বদলের সময় তাদের ফার্নিচার বহনে নিজের ভ্যান ব্যবহার করতেন। কিন্তু অতিসম্প্রতি তিনি, এনজিও আশা থেকে ঋণ নিয়ে নিজেই তা চালান। নিজে চালালে সব টাকা তার কাছে থেকে যায়। আবার ভাড়া দিলে দিন শেষে পেয়ে থাকেন ৫০০ টাকা। খোজ খবর নিয়ে দেখা গেছে, যারা এখন, ইজিবাইক, বা ব্যাটারি চালিত রিকসা চালান তারা অনেকেই অন্য পেশায় ছিলেন। এখন নিজের পায়ে দাড়ানোর জন্য এই পথ বেছে নিয়েছেন। এই ইজিবাইক, এবং ব্যাটারি চালিত রিকসার জন্য এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন নীতিমালা তৈরী পর্যন্ত বিআরটিএ। আর নীতিমালা না থাকার কারনে তাঁরা বেপরোয়া গতিতে সড়কে তাদের যানবাহন চালান বলেই সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন। মাগুরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জানান, ব্যাটারি চালিত রিকসা কোন সড়ক গুলোতে চলবে তার একটি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। যেখানে বাস ও ভারী গাড়ি চলাচল করবে সেখানে কোন ভাবে এসব অটো রিকসা চলতে দেওয়া উচিত নয়। এরই ফলে দুর্ঘটনার ঝুকি বেড়ে যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন বিশেজ্ঞ এক অধ্যাপক জানান ব্যাটারি চালিত রিকসার কাঠামোগত কিছু দুর্বলতা রয়েছে। এ সব গাড়ির মুল সমস্যা হচ্ছে ব্যাটারির সাথে মটর যুক্ত থাকে ব্রেক চাপলে মটর ঘুরতে থাকে। মাগুরা শহরের একাধিক রিকসা গ্যারেজ মালিক জানিয়েছেন বর্তমানে যেসব ব্যাটারি চালিত রিকসা ও ইজিবাইক চলে। তার মধ্যে-দু-ধরনের ব্যাটারি রয়েছে।

একটি হচ্ছে পাউডার ব্যাটারি অন্যটি হচ্ছে পানি ব্যাটারি। প্রতিদিন রিকসা ব্যাটারি চার্জের জন্য গ্যারেজ মালিকে দিতে হয় ৫০টাকা।সারা রাত চার্জ দিতে হয়। প্রতিমাসে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল আসে সে তথ্য অনেকেই গোপন রাখেন। বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রাণালয় হতে আমরা কিছু নিদের্শনা পেয়েছি, এসব ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশার লাগাম টেনে ধরার জন্য। এ বিষয়ে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করা হবে।