খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) সংসদীয় আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে অভূতপূর্ব জনসমর্থন ও গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ১০ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই ধামালিয়া ইউনিয়নে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ শত শত মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন চেপে রাখা পানির মতোই জনতার এই জোয়ার এখন বাধ ভেঙে বেরিয়ে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় খুলনা-৫ আসনের খানজাহান আলী থানার শিরোমনি বাজারে নির্বাচনী মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটোর সভাপতিত্বে ও গাজী মোর্শেদ মামুনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, ইসলামী ছাত্রশিবিরের দক্ষিণ জেলা সাবেক সভাপতি বেল্লাল হোসেন খেলাফত মজলিস নেতা সরদার আব্দুল জালাল, হাফেজ আমিনুল ইসলাম, ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হাফেজ গোলাম মোস্তফা, জামায়াত নেতা মো. আমিরুল ইসলাম, মো. আশরাফুল আলম, মো. গোলাম কিবরিয়া, এডভোকেট আমিরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মারুফুল কবির, মাওলানা তাজুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, প্রমুখ। সমাবেশ শেষ করে একটি বিশাল মিছিল শিরমোনি এলাকা থেকে শুরু হয়ে খুলনা-যশোর মহাসড়ক হয়ে ইস্টার্ণ গেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার ১ নম্বর ধামালিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে পথসভা ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি বক্তৃতা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় তার সঙ্গে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, উপজেলা নায়েবে আমীর গাজী সাইফুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, ধামালিয়া ইউনিয়ন আমীর মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, রুদাঘরা ইউনিয়ন আমীর মোস্তফা কামাল, ইউনিয়ন সেক্রেটারি তৈয়েবুর রহমান, ছাত্রশিবিরের উত্তর ডুমুরিয়া সভাপতি মফিজুর রহমানসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছেÑতিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের কোনো শাসনই দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন বা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সফল হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিটি শাসনামলেই বিদেশে অর্থ পাচার, বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন, মিথ্যা মামলা, রিমান্ড, ক্রসফায়ার ও দীর্ঘ কারাবাসের ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে সরকারি দলের লোকজন গুরুতর অপরাধ করেও সহজেই জামিন পেয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এই অন্যায় ও ইনজাস্টিসের অবসান ঘটাতে আমরা দেশবাসীর সামনে ‘নতুন বাংলাদেশ’ ও মানবিক বাংলাদেশ এর স্বপ্ন তুলে ধরছি। যেখানে থাকবে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা, স্থিতিশীল রাজনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার জন্য অনুকূল পরিবেশ।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল দাবি করেন, চরিত্র, নৈতিকতা ও সততার পরীক্ষায় জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে জাতির সঙ্গে পরীক্ষিত হয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইসলামী চেতনা, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে বিশ্বাসী মোট ১০টি দল একত্রিত হয়ে এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চায়, যারা অতীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে ব্যর্থ হয়নি, বরং এখনো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়নি।

ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার প্রধান সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ। ভবদহ, বিলডাকাতিয়া, মধুগ্রাম, সাবাড়িয়া, ঘোষরা ও বাদুড়ি বিলসহ অসংখ্য বিলে বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। নির্বাচিত হলে এসব এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মস্তানিমুক্ত জনপদ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে ডুমুরিয়া-ফুলতলাকে একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করা হবে। শেষে তিনি নিজের জন্য নয়, বরং সারা দেশে ১০ দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই আসনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করুন এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে আমাদের সঙ্গে থাকুন।”