ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা: সালাউদ্দিন সাহেব এখন ডি-ফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী’ সরকারের ওপর বিশেষ এক নেতার প্রভাব নিয়ে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “ উনি তো ডি-ফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী এখন। তিনি তো আর ওই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাই, আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিনি বাংলাদেশের সবকিছুই চালাচ্ছে। সালাউদ্দিনের উপরে প্রধানমন্ত্রীর কোনো কথা নাই বলে মন্তব্য করছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। গতকাল সোমবার ঠাকুরগাঁও জেলা সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
৩১ দফা সংস্কার ও ‘মুনাফিকি’র অভিযোগ রাজনৈতিক সংস্কার ও ৩১ দফা প্রসঙ্গে তিনি সরকারকে ‘মুনাফিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “তাদের নিজেদের সাথে নিজেরা মুনাফিকি করছে, বেইমানি করছে, দ্বিচারিতা করছে। নিজেদের ৩১ দফার প্রথম দফা রাষ্ট্র সংস্কারকেই তারা এখন অস্বীকার করছে। গণভোটের রায় যেখানে ৭০ শতাংশ মানুষ পক্ষে দিয়েছে, সেই রায়কে তারা গড়িমসি করছে। পৃথিবীর কোথাও গণভোটের রায় অমান্য করার নজির নাই।”
ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের প্রধান কয়েকটি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারকারী এস আলম গ্রুপকে সরকার আবারও মালিকানায় পুনর্বাসিত করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের করা জনস্বার্থমূলক অধ্যাদেশগুলো পরিবর্তন করে লুটেরাদের সুবিধা করে দিচ্ছে। ব্যাংকের মালিক ছিল এস আলম। এস আলম এখান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে। ইসলামী ব্যাংক এবং এই চারটা ব্যাংক মিলে টোটাল ৯৫ হাজার কোটি টাকা তারা এই ব্যাংকিং খাত থেকে নিয়ে লোপাট করছে, বিদেশে পাচার করছে অথবা নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে ব্যাংকগুলো সচল করা হলেও এখন তা পুনরায় এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার পায়তারা চলছে। সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে ব্যাংকটা রান করল, আবার সেই ব্যাংক যাতে লোপাট করতে পারে তার মালিকানা ফেরত নেয়ার জন্য এই অধ্যাদেশের এই ধারা বাতিল করে ৭ পারসেন্ট মালিকানা থাকলেই আবার তারা পূর্বের মালিক হতে পারবে। তার মানে এস আলমকে পুরো চারটা ব্যাংক তাদের হাতে তুলে দেওয়া।”
বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে তিনি বলেন, জিডিপি গ্রোথ রেট ৩.৬৯ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকটে মানুষ নাভিশ্বাস অবস্থায় আছে। এর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিক্ষা জাতির মেরুদ-। গ্রামে শিক্ষার্থীরা হেঁটে স্কুলে যায়, সেখানে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে ক্লাস অনলাইন করা অযৌক্তিক। এই পলিসি সরকারের ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত ছিল।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইসলামী ছাত্রশিবির মনে করে গঠনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারকে আমরা দাবি জানাবো। তবে সরকার যদি নমনীয় না হয় এবং আসলেই ফ্যাসিবাদী রাস্তায় হাঁটে, তাহলে যে পরিণতি ফ্যাসিবাদের হয়েছে, সেই কর্মসূচির দিকেই আমাদের ধারাবাহিকভাবে আবার যেতে হবে।”
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঠাকুরগাঁও শহর সভাপতি মাহমুদুল হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।