নোয়াখালী সংবাদদাতা : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ‘সাদা দল’ সমর্থিত শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার জানায়, আমাদের বিশ্বাস অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (৩টি প্রশাসনিক পদ, ১টি ডিন ও ২টি পরিচালক), অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর সরকার (২টি প্রশাসনিক পদ, ১টি ডিন ও ১টি চেয়ারম্যান), অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ (২টি প্রশাসনিক পদ, ১টি প্রভোস্ট ও ১টি অতিরিক্ত পরিচালক) ও অধ্যাপক ড. আবিদুর রহমান (২টি প্রশাসনিক পদ, ১টি চেয়ারম্যান ও ১টি প্রভোস্ট) সহ সাদা দলের প্রায় সকল শিক্ষকই শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি অত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ডিন, পরিচালক ও চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া গত দেড় বছরে উপরোক্ত শিক্ষকগণ অর্ধশতাধিক কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থাৎ তারা কেউই বর্তমান প্রশাসনের বাইরের নয়। পাশাপাশি ওনাদের যেকোন অভিযোগ, নোট অব ডিসেন্ট ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড ও একাডেমিক কাউন্সিলসহ সকল পর্ষদেই তাদের সম্মানজনক অংশগ্রহণ রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় আঙিনার বাইরে নোয়াখালী শহরে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে মিথ্যাচার করা কর্তৃপক্ষের কাছে বেমানান ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়।

প্রশাসনের দাবি, বর্তমান আমলে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। যারা এখন নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, সেই অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর সরকারসহ অন্যান্য অভিযোগকারীরাই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে (প্রশ্ন প্রণয়ন, ভাইভা বোর্ড, রিজেন্ট বোর্ড) সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

নিয়োগের সময় তারা কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা লিখিত আপত্তি জানাননি, যা এখনকার অভিযোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগকে নাকচ করে প্রশাসন জানায়, এটি ভর্তি পরীক্ষার সফটওয়্যার ও কারিগরি কমিটির খরচের অর্থ ছিল, যা নিয়ম মেনেই ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার সম্মানি বন্টনে বৈষম্যের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার জবাবে প্রশাসন তথ্য দিয়েছে যে— অভিযোগকারী শিক্ষকরা নিজেরাও বড় অংকের সম্মানি গ্রহণ করেছেন। তথ্যানুযায়ী, অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম ৯৭,০০০ টাকা এবং অধ্যাপক জাহাঙ্গীর সরকার ৮০,০০০ টাকা সম্মানি পেয়েছেন।