নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা : ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার পাটশোলা। দূর-দূরান্ত থেকে পাটশোলা সংগ্রহ করে নান্দাইল উপজেলা সহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলায় তা বিক্রি করা হচ্ছে। পানের ভড়জ তৈরী, ঘরের বেড়া ও রান্না-বান্নায় জ¦ালানির কাজে ব্যবহার হওয়ায় দিন দিন পাটশোলার কদর বাড়ছে। সরজমিন পরিদর্শনে জানাগেছে, উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কালির বাজার, সুরাটি বাজার, জাহাঙ্গীরপুর সীড স্টোর বাজার ও সিংরইল ইউনিয়নের বাকচান্দা বাজার, খারুয়া ইউনিয়নের বনগ্রাম চৌরাস্তা বাজার, মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের ঝালুয়া বাজার ও কানুরামপুর সহ নান্দাইলের বেশ কয়েকটি বাজারে পাটশোলা বিক্রি করা হচ্ছে। এক সময় পাটশোলার তেমন কদর ছিলনা, কিন্তু কালের আবর্তে বর্তমানে এটি এখন আর ফেলনা নয় দামি কৃষি উপকরণ হিসাবে পরিণত হয়েছে। গ্রামে বিভিন্ন কাজে এর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এখন দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে প্রতিদিন পাটশোলা বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে পাটশোলা পাওয়া না গেলেও দূর-দূরান্তের জেলা থেকে পাটশোলা এনে বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ব্যবসায়ীরা এখন প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পাটশোলা বিক্রি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন। কালির বাজারের পাটশোলার ব্যবসায়ী সোহেল রানা জানান, এ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে তার মত আরও ২৫ জন বিক্রেতা রয়েছেন। যারা কুড়িগ্রাম, রংপুর, মাগুড়া ও ফরিদপুর থেকে ট্রাকে করে পাটশোলা এনে এখানে বিক্রি করছেন। সেসব জেলায় গিয়ে গ্রামে ঘুরে ঘুরে লেবারের সহায়তা নিয়ে ২০ টাকা করে আটি হিসাবে পাটশোলা কিনে একসাথে জমা করেন। তারপর সেগুলো ট্রাকে তুলে দিতে লেবার খরচ দেন ৩৫০০ টাকা, খাজনা ৫০০ এবং ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া দিয়ে এখানে আনেন। এভাবে ১ ট্রাক পাটশোলা আনতে তাদের সর্ব সাকুল্যে খরচ পড়ে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা। বিক্রেতা মজলু মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,তারপর তারা সেই পাটশোলা ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করে থাকেন। তারা সাধারন মানুষ অল্প করে কিনে নিলেও তাদের বড় ক্রেতা হচ্ছে পানের বরজ মালিকরা। তারা ৫ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাটশোলা একত্রে কিনে নিয়ে যান। এছাড়া দূর-দুরান্ত থেকেও ক্রেতারা যানবাহনে করে এসে তাদের কাছ থেকে পাটশোলা কিনে নিয়ে যান। সব খরচ বাদ দিয়ে এক ট্রাক পাটশোলা বিক্রি করে তাদের ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ হয়। জাহাঙ্গীরপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান,শুধু স্থানীয় কালির বাজার নয় উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজারে পাটশোলার কদর বেড়েছে। এতে করে পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে কৃষকদের। এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাইমা সুলতানা বলেন, এটা একটা ভালো উদ্যোগ। যার কারণে পাটচাষী, ব্যবসায়ী এবং পানচাষী সকলেই লাভবান হচ্ছেন। এতে করে পানের সাথে সাথে পাটের উৎপাদনও অনেকাংশে বেড়ে যাবে।