বাঁশখালী, চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : ঈদের ৫ম দিনেও ঈদের বাহনায় বাঁশখালীর প্রধান সড়কে চলছে ভাড়া নৈরাজ্য, ছুটি শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলমুখী মানুষ চট্টগ্রামের আনোয়ারা -বাঁশখালী- পেকুয়া সংযোগ পিএবি সড়কে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার প্রেম বাজার, নাপোড়া বাজার, চাম্বল বাজার, উপজেলা সদর, পৌরসভার মিয়ার বাজার, গুনাগরীসহ প্রধান সড়কের অন্তত ৬টি স্পটে চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় যাত্রীদের ভোগান্তির দৃশ্য। এইসব ব্যস্ততম পয়েন্টগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি দেখলেই মনে হয় যেনো যাত্রী ভোগান্তির এক একটি দৃশ্যস্পট।
ঈদের ছুটি শেষে বাড়ি থেকে শহরমুখী ফেরা যাত্রী মোঃ ইউনুস, গার্মেন্টস শ্রমিক মুরাদ, জিসান, শহিদুল মোস্তফা, নাছির, সেলি আক্তার, জেসমিন, আকলিমা আকতারসহ অন্তত শতাধিক মানুষ সড়কে ভোগান্তির বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, ঈদের ছুটিতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার সময় গাড়ি চালকরা এমনিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ ভাড়া অতিরিক্ত আদায় করেছে। ছুটি শেষে ঈদের ৫ম দিনে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথেও গাড়ি চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে এখন আরও বেশি ভাড়া আদায় করছে। স্বাভাবিকভাবে প্রেম বাজার থেকে মইজ্জারটেক হয়ে নতুন ব্রীজ পর্যন্ত সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ১২০ টাকা হলেও এখন জনপ্রতি ৪০০ টাকা, নাপোড়া থেকে ১১০ টাকার পরিবর্তে ৩৫০টাকা, চাম্বল বাজার থেকে ১০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০টাকা, উপজেলা সদর থেকে ৮০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা, মিয়ার বাজার থেকে টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা, গুনাগরী চৌমুহনী থেকে ৬০ টাকার পরিবর্তে ২৫০ টাকা করে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছে সিএনজি চালকরা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে পরিদর্শনকালে বাঁশখালীর সিএনজি স্টেশন গুলোতে চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণের অধিক ভাড়া দাবি করতে দেখা গেছে। এসময় ভিডিও ধারণ করতে চাইলে বেশ কয়েকজন সিএনজি দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা প্রতিবেদককে ভিডিও ধারণ করতে বাধা দেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা স্বীকার করে কয়েকজন সিএনজি চালক বলেন, বদ্দা আপনারা সাংবাদিক মানুষ, আমরা আপনাদের কাছ থেকে ভাড়া বেশি নিবনা, ঈদ উপলক্ষে কিছু ভাড়া বেশি নিচ্ছি, সড়কে যানজটের ভাড়া নিয়ে বাঁশখালী থেকে শহরে যেতে ৩-৪ ঘন্টা সময় লাগে, আর শহর থেকে আসার সময় যাত্রী পাওয়া যায়না, খালি গাড়ি নিয়ে ফিরে আসতে হয় বলে ভাড়া অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে বলে স্বীকার চালকরা।
সিএনজি চালকদের জিম্মিদশা রক্ষা পেতে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে উঠে কর্মস্থলে যোগ দিতে শহরে রওয়ানা হতে দেখা গেছে। সড়কে যাত্রীদেট ভোগান্তি দূর করতে সরকার ও প্রশাসন ঈদের আগে থেকে সক্রিয় ভাবে কাছ করলেও আনোয়ারা- বাঁশখালী- পেকুয়া সংযোগ পিএবি সড়কে কোনো ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী ভোগান্তি।
এবিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও জামশেদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সংক্রান্তে জানতে পেরে, যাত্রীদের সুবিধার্থে তিনি নিজেই গুনাগরী স্টেশনে সিএনজি ভাড়া নির্ধারণ করে দেন এবং লোকাল ভাড়ায় ৬টি বাস ছাড়তে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান ইউএনও জামশেদুল আলম।