তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বগুড়াবাসীকে যে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, সেগুলো তালিকা করে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বগুড়া প্রেসক্লাব পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মাণের দায়িত্ব তিনি মন্ত্রী হিসেবে নিয়েছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহরের করতোয়া কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত রাজশাহী বিভাগের সাত জেলার সাংবাদিকদের আর্থিক অনুদান এবং সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তথ্য মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের বয়স এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি। অনেকের ভোটের কালির দাগও শুকায়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জনগণের কল্যাণে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে, কৃষক কার্ড বিতরণের কাজ চলছে এবং কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা কেউ গাড়ি বা প্লট নেবেন না। সরকারের যাত্রার শুরুতেই আমরা যে কাজগুলো করেছি, তাতে আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণ ধারণা পেয়েছে। গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। আধুনিক সভ্যতায় গণমাধ্যম ছাড়া সভ্যতার চর্চা সম্ভব নয়। গণতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজ অন্ধকারে থাকে। রাষ্ট্রের সব কর্মকাণ্ড আয়নার মতো তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল করতে হলে এটিকে সময়োপযোগী করে ঢেলে সাজাতে হবে। সাংবাদিকদের জন্য নেওয়া উদ্যোগগুলো কোনো দয়া বা অনুদান নয়, বরং গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা। মন্ত্রী আরও বলেন, “রাষ্ট্রে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি থাকলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এমন পরিস্থিতিতে পড়তো না। আমরা জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমাকে সকল সম্প্রচার মাধ্যমে মূল্যবোধভিত্তিক প্রচারণা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন। আতিকুর রহমান রুমন বলেন, “যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, এটি কোনো অনুদান নয়, এটি সাংবাদিকদের প্রাপ্য। গত ১৭ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা কলম দিয়ে লড়াই করেছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন। আমরা সাংবাদিক মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। তিনি বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার দাবিও জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য কালাম আজাদ, বগুড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু, জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাস।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ ছাড়া বাকি সাত জেলার ৫১ জন সাংবাদিককে আর্থিক অনুদান এবং ৪৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদ। তথ্য মন্ত্রী বায়তুর রহমানর সেন্ট্রাল মসজিদে জুমআর নামাজ শেষে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় শেষে নির্মাণলাধীন প্রেসক্লাবের বহুতল ভবন ঘুরে দেখেন। পরে তিনি বগুড়া বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনর করেন।