ভূরুঙ্গামারী (কড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : হাট-বাজারের টেকসড ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষে বাস্তবায়নাধীন প্রভাতী প্রকল্প ভূরুঙ্গামারীতে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ৬টি হাট-বাজারে সম্পন্ন হয়েছে হাটসেড সহ অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম। জয়মনিবহাট ও আন্ধারীঝাড় হাট-বাজারে ২টিতে উন্নয়ন কার্যকম প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরফলে বদলে গেছে হাট-বাজারের চিত্র।
জানাগেছে, বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)-এর অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বাস্তবায়নে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৮ কোটি ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭৮১ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর উপজেলার ৮টি হাট-বাজারে মোট ৯২০ জন নারী সদস্য স্থানীয় শ্রমিক হিসেবে এই প্রকল্পে কাজ করেছেন, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
উপজেলা প্রকৌশলী ইনছাফুল হক সরকার জানান, প্রভাতী প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৮টি হাট-বাজারে জলবায়ু সহনশীল ও দীর্ঘস্থায়ী অবকাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। এতে বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এই উন্নয়নের সুফল শুধু ব্যবসায়ীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আশপাশের গ্রামের সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে বাজার উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রভাতী প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। ইফাদের সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্প স্থানীয় জনগণের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এছাড়াও, প্রকল্পের আওতায় সদস্যদের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগের ফলে এলাকাবাসী বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা আয়মুখী কর্মকা-ে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
জয়মনিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, প্রভাতী প্রকল্পের মাধ্যমে জয়মনিরহাট বাজারে দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হয়েছে। উন্নত অবকাঠামোর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনসাধারণের চলাচল সহজ হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহাদুল আলম ও আব্দুল খালেক জানান, আগে রোদ-বৃষ্টিতে মাথার উপর পলিথিন ব্যবহার করতাম। বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও কাদা-পানির কারণে বাজারে ব্যবসা করা কষ্টকর হত। এখন পাকা হাট সেড হওয়ায় ক্রেতার উপস্থিতি বেড়েছে, ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য আগের তুলনায় ভালো হচ্ছে।