ঝালকাঠিতে নিখোঁজের আট ঘণ্টা পর সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধারকে ঘিরে রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর সকালে নদীর পাড়ে মিলেছে তার নিথর দেহ। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি- এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ঝালকাঠি পৌরসভার খেয়াঘাট নতুন চর এলাকা। সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন নিলুফা ইয়াসমিন নামের মধ্য বয়সী এক নারী। পরিবারের সদস্যরা সারা রাত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরদিন মঙ্গলবার ভোর ছয়টার দিকে সুগন্ধা নদীর পাড়ে বাসা সংলগ্ন ঘাটলার পাশে এক নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

নিহত নিলুফা ইয়াসমিনের বয়স ৫৫ বছর। তিনি শুকুর মিয়ার স্ত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াসের মা। এলাকায় তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবি, লাশ উদ্ধারের সময় নিলুফা ইয়াসমিনের নাক ও কান থেকে স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, পানিতে পড়ে মৃত্যু হলে এত অল্প সময়ের মধ্যে লাশ ভেসে ওঠা স্বাভাবিক নয় বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তারা। ফলে এটি একটি রহস্যজনক মৃত্যু বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে খেয়াঘাট এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।