গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন কাশিমপুর ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদীর পশ্চিম তীরে নির্মাণাধীন সড়কে প্রাকৃতিক ভূমিধসের ঘটনায় নদীর দুই পাড়ে ব্যাপক ধস ও সড়কের একটি অংশ দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় যান চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে প্রাকৃতিক কারণজনিত ভূমিধস হিসেবেই চিহ্নিত করেছে।
ঘটনার পরপরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, ধসের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে সড়ক ও নদীতীর টেকসইভাবে রক্ষার করণীয় নির্ধারণে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এর ভিসি কর্তৃক মনোনীত একজন অধ্যাপক, সদস্য হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, গাজীপুর এবং সদস্য সচিব হিসেবে মোঃ মাইদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।
কমিটিকে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও নদীতীর পরিদর্শন করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে ধসের কারণ নির্ণয়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং টেকসই প্রতিকারমূলক সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, নগরের অবকাঠামো উন্নয়নে গুণগত মান ও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নদীপাড়ের ভৌগোলিক ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। অনাকাক্সিক্ষত এই প্রাকৃতিক ভূমিধসের ঘটনায় দ্রুত কারিগরি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নকশা ও নির্মাণপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে সড়কটি আরও টেকসই করা হবে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হাসান জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি প্রাকৃতিক ভূমিধস বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ কারিগরি বিশ্লেষণের জন্য বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রকল্প পরিচালক ও গাজীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে যুক্ত করে তদন্তকার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, এ কে এম হারুনুর রশীদ বলেন, প্রাকৃতিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট এ পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে নির্মাণকাজ আরও মানসম্মত করা হবে। কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী, শামসুর রহমান জানান, নদীপাড়ের এলাকায় নির্মাণকাজে স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকি থাকে, তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেবে যাওয়া সড়ক মেরামত ও নদীতীর সংরক্ষণ জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাকৃতিক ভূমিধসজনিত ঝুঁকি অনেকটাই কমবে এবং নগরের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম আরও টেকসই হবে।