আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থী রাজনীতির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত একটি স্বার্থান্বেষী মহল কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও মিডিয়া ট্রায়াল শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
গতকাল বুধবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউসুফ হাকিম সোহেল বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি বলেন, “নির্বাচনী মাঠে আদর্শিক শক্তির অগ্রযাত্রা ঠেকাতেই একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ দাঁড় করিয়েছে। বন্ধন ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড কোম্পানি ও জমি সংক্রান্ত যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা শতভাগ আইনানুগ ও বৈধ লেনদেন।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও জমির মালিকানা হস্তান্তর রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে নিবন্ধিত, বোর্ড রেজুলেশন অনুমোদিত এবং পাঁচজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি ও আইনি নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি যথাযথভাবে অবহিত করা হয়েছিল।
ইউসুফ হাকিম সোহেল বলেন, “বৈধ লেনদেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচনী সময়ে হঠাৎ এসব অভিযোগ তুলে আমার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার বৈধ লেনদেনকে ‘স্বাক্ষর জালিয়াতি’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বাস্তবে নগদ অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর কোম্পানির সম্পত্তি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ, দীর্ঘ এক বছর জমিতে সাইনবোর্ড টানানো এবং এতদিন কোনো আপত্তি না ওঠা- সবই বৈধ মালিকানার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এত বছর কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অথচ নির্বাচনের সময় হঠাৎ একজন নারীকে সামনে এনে সংবাদ সম্মেলনের নাটক সাজানো হয়েছে, যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমি বা কোম্পানির কোনো ধরনের আইনগত সম্পর্ক নেই। এটি স্পষ্টতই মিডিয়া ট্রায়াল ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।”
তিনি জানান, যাদের কাছ থেকে তিনি জমির মালিকানা গ্রহণ করেছেন তাদের একজন ফরহাদ। অভিযোগকারী নারী ফরহাদের দ্বিতীয় স্ত্রী হলেও ফরহাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। “যেখানে মূল পক্ষের কোনো আপত্তি নেই, সেখানে তৃতীয় পক্ষের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত,” বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইউসুফ হাকিম সোহেল দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন, এই ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। উল্লেখ্য, এর আগে ফাতেমা নামের এক নারী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেলের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ উত্থাপন করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়।