ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের ফলাফল প্রকাশ আপাতত স্থগিত করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। আসন দুটি হলো চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড)।

গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়, আদালতে চলমান মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই দুই আসনের নির্বাচনি ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ), যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী, বেসরকারিভাবে ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিক (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। তবে হাইকোর্টের একটি রিট পিটিশন থেকে উদ্ভূত মামলা বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকায় তার ফলাফল প্রকাশে আইনগত জটিলতা তৈরি হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ মামলায় আপিল বিভাগের ৩ ফেব্রুয়ারির আদেশ অনুসরণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনগতভাবে বাধাগ্রস্ত নন; তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের ফলাফলও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হলেও তার প্রার্থিতার বৈধতা ঋণখেলাপির অভিযোগে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।

জামায়াত প্রার্থীর পক্ষ থেকে লিভ টু আপিল করা হলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আপিল বিভাগ তা গ্রহণ করেন। আদালত নির্দেশ দেন, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনি ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিল শুনানিতে যদি প্রমাণিত হয় যে সারোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি নন, তাহলে নির্বাচন কমিশন ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবে। এর আগে তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলও আপিল বিভাগ মঞ্জুর করে।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন এবং পুনরায় উল্লেখ করেন যে আপিল নিষ্পত্তির আগে নির্বাচনি ফল গেজেট করা যাবে না।