দেশের ধান গবেষণার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-তে দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। পারস্পরিক সমঝোতা, গঠনমূলক আলোচনা এবং কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্থবিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক গবেষণা ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে ফেরার পথ সুগম হয়েছে। ব্রির মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. রফিকুল ইসলাম, পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মুন্নুজান খানম, বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি ও আরএফএস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. ইব্রাহিম, বিজ্ঞানী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মুকুল, কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রশীদ তালুকদার, কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মো. রমজান আলী, সদস্য মো. কালাম হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. নওয়াব আলী, শ্রমিক প্রতিনিধি মো. আলমগীর, এসএফএমআর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. সাইফুল ইসলাম এবং এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দীর্ঘদিনের জমে থাকা জটিলতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় এবং বাস্তবভিত্তিক সমাধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার পর শ্রমিক-কর্মচারী ও বিজ্ঞানীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী দশজন কর্মচারীকে আত্তীকরণের দাবি অনুমোদন দেয়া হয়েছে, শ্রমিকদের নিয়মিত ওভারটাইমের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং বিজ্ঞানীদের চঝঙ পদমর্যাদায় পদোন্নতির বিষয়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জানান, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে নেয়া এই সিদ্ধান্তগুলো ব্রির অভ্যন্তরীণ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এর ফলে গবেষণা কার্যক্রমে যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছিল তা দূর হয়ে বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বাভাবিকভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হতে পারবেন।
ব্রি’র মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্থবিরতা দূর করে গবেষণার ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা দেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে এই ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হওয়ায় ব্রির অভ্যন্তরে স্বস্তি ও আশাবাদের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।