রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামে শনিবার রাত ৮টার দিকে ঈদগাহ মাঠের ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি’র হামলায় নিহত জামায়াতের কর্মী ও মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিনের জানাযা ও দাফন গতকাল রোববার সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলাও হয়েছে।

জানাযা-পূর্ব সমাবেশে জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, শহীদ আলাউদ্দীন একদিকে যেমন মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে আল্লাহর ঘরের দায়িত্ব পালন করেন তেমনই জামায়াতের কর্মী হিসেবে ইসলামী আন্দোলনের কাজ করছিলেন। তাঁর শাহাদত ইনশাআল্লাহ বৃথা যাবে না। জানাযায় অংশগ্রহণ করেন বাগমারা আসনের জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. আবদুল বারী, কেন্দ্রীয় জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক মেয়র অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক, মহানগরী জামায়াতের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, মোহনপুর উপজেলা আমীর মাওলানা আবদুল আওয়াল প্রমুখ। শহীদ আলাউদ্দীনকে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।

উল্লেখ করা যেতে পারে, শনিবার রাত ৮টার দিকে সাঁকোয়া ঈদগাহ বড় মসজিদে তারাবির নামাযের আগে আসন্ন ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগ নিয়ে একটি আলোচনা সভা হয়। সভায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা চলাকালে উভয় পক্ষ ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেয়ার বিষয় নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এসময় মারপিটে জামায়াত কর্মী আলাউদ্দীন আহত হওয়ায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা আলাউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। মোহনপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল আওয়াল বলেন, “নিহত আলাউদ্দিন জামায়াতের কর্মী ছিলেন। সংঘর্ষের সময় বিএনপির কর্মীদের হামলায় তাদের কয়েকজন কর্মী আহত হন। তাদের মোহনপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আলাউদ্দিন মারা গেছেন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করি।” তবে মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, “সাঁকোয়া গ্রামের ঈদগাহের ইমাম নিয়োগ কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে হার্ট এ্যাটাকে আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে।” মোহনপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জামায়াত নেতা-কর্মীরা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এব্যাপারে মোহনপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

মহানগরী জামায়াতের নিন্দা

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগরীর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের আমীর ড. মাওলানা কেরামত আলী এমপি ও সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল এক যৌথ বিবৃতিতে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত নৃশংস, অমানবিক ও কাপুরুষোচিত। একটি শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের বর্বর হামলা সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মোহনপুর উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের, যারা জামায়াত মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এটা একটি ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ওমর ও রাইসুলসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে গ্রেফতার করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

রাজশাহীতে কর্মী হত্যায় জামায়াতের উদ্বেগ

রাজশাহীতে জামায়াত কর্মীকে হত্যা করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল রোববার বিবৃতি দিয়েছেন।

প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ৭ মার্চ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদের নামাযে ইমাম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিনের সন্তানদের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এ সময় মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন ছেলেদের নিবৃত্ত করতে আসলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মো. আলাউদ্দিনের ওপর হামলা করে। এতে তিনি নিহত হন। আমি এই হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এহসানল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একটি ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই সহিংস ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। একজন মসজিদের মুয়াজ্জিনকে এভাবে হত্যা করার ঘটনা গোটা সমাজের জন্যই বেদনাদায়ক। মসজিদ হলো মুসলমানদের ঐক্য, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের স্থান; সেখানে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা সহিংসতার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, নিহত মো. আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং এলাকায় একজন ধর্মপ্রাণ ও সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমি তাঁর নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।

তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রকৃত দায়ীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমি নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি, তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁকে শহীদ হিসেবে কবুল করার জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া করছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।