খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে কাঁদতে কাঁদতে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন সালাম মোড়ল। খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের সালামের মেয়ে মারজিয়া আক্তার মিতুর সঙ্গেই বিয়ে হয়েছিল মোংলার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের সঙ্গে। সড়ক দুর্ঘটনায় তার দুই মেয়ে মারজিয়া আক্তার মিতু এবং লামিয়া মারা গেছে। মারা গেছেন সালাম মোড়লের মা রাশিদা বেগম ও শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম। সবাইকে হারিয়ে সালাম মোড়ল পাগল প্রায়।

তিনি বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন, জ্ঞান ফিরে আসলে বাকরুদ্ধ হয়ে এদিকে ওদিক পরিবারের সদস্যদের খুঁজছেন। এই শোকবহ পরিবেশের মধ্যে অল্প কথা হয় সালামের সঙ্গে।

তিনি বলেন, বুধবার রাত ১১টায় ঘটা করে মেয়ের বিয়ে দেন। সারা রাত উৎসব চলে। আনন্দ-উৎসব করে নির্ঘুম রাত কাটায় প্রায় সবাই। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নববধূসহ আমার আরেক মেয়ে, আমার মা ও শাশুড়িকে নিয়ে মাইক্রোবাসে রওয়ানা হয় তারা। কিন্তু একি হলো। আমার আর কেউ রইলো না।

সালাম মোড়ল আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মোবাইলে ফোন করে দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়। খবর পেয়ে ছুটে আসি। রওয়ানা দেওয়ার সময় আমি কিছুই জানতে পারিনি। এসে দেখি সব শেষ। তিনি বলেন, ‘আমার আর কেউ থাকলো না, আল্লাহ তুমিও আমাকে নিয়ে যাও।’