মোংলা উপজেলার সুন্দরবনের সরকির খালসংলগ্ন বনের অভ্যন্তরে চোরাশিকারিদের পেতে রাখা হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আটকে পড়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বাঘটি উদ্ধারে বনবিভাগ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল নিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্ধার অভিযান শুরু করার কথা রয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, মোংলার বৈদ্ধমারী ও জয়মনি এলাকার মধ্যবর্তী সরকির খালপাড়ের অভ্যন্তরীণ বনাঞ্চলে চোরাশিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদে বাঘটিকে আটকে থাকতে দেখা গেছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরের পর স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে বনবিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটিকে ফাঁদে আটকে থাকা অবস্থায় শনাক্ত করেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকির খালপাড় ও আশপাশের এলাকা কর্ডন করে দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ বা জেলেরা ওই এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে। বনবিভাগ জানায়, খালপাড় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার ভেতরে গভীর বনের মধ্যে বাঘটি ফাঁদে আটকে রয়েছে, যা উদ্ধার কার্যক্রমকে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

বাঘটির আচরণ স্বাভাবিক রাখতে এবং আশপাশের এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে শনিবার গভীর রাতে সতর্কতামূলকভাবে ফাঁকা গুলি ছোড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে শব্দের মাধ্যমে বাঘটি কিছুটা শান্ত থাকে এবং হঠাৎ আক্রমণাত্মক না হয়ে ওঠে।

এদিকে উদ্ধার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ঢাকা থেকে বনবিভাগের একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন আনা হচ্ছে। তিনি রোববার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরই উদ্ধার কাজ শুরু হবে। উদ্ধার অভিযানে ট্যাংকুলাইজার ব্যবহার করা হবে। নির্দিষ্ট মাত্রার গুলির মাধ্যমে ট্যাংকুলাইজার বাঘের শরীরে প্রবেশ করানো হলে প্রায় আধা ঘণ্টার জন্য বাঘটি অচেতন থাকবে। এই সময়ের মধ্যেই ফাঁদ কেটে বাঘটিকে নিরাপদে মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বনবিভাগ আরও জানিয়েছে, উদ্ধারকালে যদি দেখা যায় বাঘটি ফাঁদে আটকে গুরুতরভাবে আহত হয়েছে বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতায় ভুগছে, সেক্ষেত্রে তাকে উদ্ধার করে লোহার খাঁচায় বন্দী করা হবে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী খুলনা অথবা ঢাকার বনবিভাগ পরিচালিত রেসকিউ সেন্টারে পাঠিয়ে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।