বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘর্ষে ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী আফনানকে (১২) গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আনা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আহত শিশুটিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আইসিইউতে (নিচতলা) ভর্তি করেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, গুলি মেয়েটির মুখ দিয়ে ঢুকে ব্রেইনে চলে গেছে।
গতকাল রোববার সকাল ৮টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রীজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিশু আফনান, ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জসিমের মেয়ে। গুরুতর আহত শিশুটিকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেকে) প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল আলম আশেক বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক শিশু রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাকে আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়েছে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, গুলি মেয়েটির মুখ দিয়ে ঢুকে ব্রেইনে চলে গেছে। তাই তার অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই টেকনাফের বিক্ষুব্ধ জনসাধারণ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে থাকে। এক পর্যায়ে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হতে থাকলে এক পর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
গুলির উৎস সম্পর্কে পুলিশ বলছে- গুলিটি মিয়ানমারের দিক থেকে এসেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা এই গুলি ছুড়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মিয়ানমার জান্তার মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে। ওই সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।
টেকনাফ সীমান্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।