খুলনা জেলার বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়নের শুড়িখালী, রাঙ্গেমারী ও সাচিবুনিয়া গ্রাম এখন যেন এক নতুন কৃষি জাগরণের স্বাক্ষর বহন করছে। রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে কৃষকেরা বেছে নিয়েছেন প্রকৃতিরই এক উপহার-মেহগনি ফলের নির্যাস। এই জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে তারা পাচ্ছেন বিষমুক্ত, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ফসলের নিশ্চয়তা।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিন গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষক-কৃষাণী প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে আমন ধান ও বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন কোনো রাসায়নিক ছিটানো ছাড়াই। তারা ব্যবহার করছেন মেহগনি ফলের বীজ থেকে তৈরি এক অভিনব বালাইনাশক, যা শুধু পোকামাকড় তাড়ায় না- মাটির উর্বরতাও রক্ষা করে।

মেহগনি নির্যাস তৈরির প্রক্রিয়াটিও সহজ। এক কেজি ফলের বীজ ভালোভাবে পিষে ৬ লিটার পানিতে ৪-৫ দিন ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর সেই নির্যাস ছেঁকে প্রতি লিটার রসের সঙ্গে ১০ লিটার পানি ও সামান্য ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে স্প্রে করা হয়। মাত্র ৫ শতক জমিতে ব্যবহার করলেই ধানের মাজরা পোকা, গান্ধি ও বাদামী গাছফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, জাব ও জ্যাসিডসহ নানা পোকার আক্রমণ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যায়। রাঙ্গেমারীর কৃষক মো. রানা খাঁ বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জীবানন্দ রায়ের পরামর্শে রাসায়নিক বাদ দিয়ে মেহগনি নির্যাস ব্যবহার করেছি। খরচ একেবারে কম, ফসলও ভালো। শরীরের ক্ষতি নেই, মাঠে এখন আর পোকা চোখেই পড়ে না।

একই গ্রামের রনজিত গোলদার গোসাই জানান, শুরুতে সন্দেহ ছিল, কাজ করবে কি না। কিš‘ ফল দেখে আমি বিস্মিত! এখন আমাদের আশপাশের অনেকেই এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জীবানন্দ রায় বলেন, দীর্ঘদিন কৃষকেরা রাসায়নিকের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এখন তারা জৈব বিকল্পে ঝুঁকছেন। মেহগনি নির্যাস ব্যবহারে কৃষিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পি.পি.) মো. তৈহিদুন ভুঁইয়া বলেন, বিষমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।