যশোরে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় দলিল নিবন্ধন, এগ্রিমেন্ট, কোর্ট ফি ও অন্যান্য স্ট্যাম্পনির্ভর কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। স্ট্যাম্প না পাওয়ায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে সেবা গ্রহণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি অর্থবছরের শেষ সপ্তাহে স্ট্যাম্প খাতে ক্লোজিং কার্যক্রম চলায় জুন মাসের শেষ দিকে নতুন চালান গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। অতীতের বছরগুলোতে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই চালান চালু হওয়ায় সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে এবার অর্থবছর শুরুর পরও চালান কার্যক্রম চালু না হওয়ায় সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।

স্ট্যাম্প বিক্রেতারা জানান, চালান নিয়ে ট্রেজারিতে গেলে কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী অনলাইন চালানের মাধ্যমে স্ট্যাম্প উত্তোলন করতে হবে। কিন্তু কোন কোডে অর্থ জমা হবে, সে বিষয়ে এখনো মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত নির্দেশনা না আসায় চালান গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির যশোর জেলা সভাপতি মির্জা শফিউর রহমান বলেন, স্ট্যাম্প সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন, তেমনি স্ট্যাম্প ভেন্ডাররাও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা দ্রুত অনলাইন চালানের জটিলতা নিরসন করে স্ট্যাম্প সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক মীর রফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের কোনো গাফিলতি নেই। আমরা নিয়ম অনুযায়ী চালান দিতে প্রস্তুত থাকলেও নতুন পদ্ধতির স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় স্ট্যাম্প উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভেন্ডারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আরও বড় ভোগান্তিতে পড়বেন।

স্ট্যাম্প কিনতে এসে ভুক্তভোগী সামিউল বারী বলেন, যেখানে যেখানে স্ট্যাম্প বিক্রি হয়, সব জায়গায় খুঁজেছি। কিন্তু কোথাও স্ট্যাম্প পাইনি। বিক্রেতারা সবাই বলছেন চালান বন্ধ থাকায় তাদের কাছে কোনো স্ট্যাম্প নেই। ফলে জরুরি কাজ সম্পন্ন করতে পারছি না।

এ বিষয়ে যশোর ট্রেজারির উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেবা রানী ও অফিস সহকারী রাজু আহমেদ বলেন, বর্তমানে অনলাইন চালানের মাধ্যমে অর্থ জমা দিয়ে স্ট্যাম্প উত্তোলনের নির্দেশনা রয়েছে। তবে কোন কোডে অর্থ জমা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশনা হাতে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই বিষয়টির সমাধান হবে এবং চালান কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।

বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষদের মতে, স্ট্যাম্প খাত সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয়ের উৎস। অথচ প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে চালান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত জটিলতা নিরসন করে স্ট্যাম্প সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।