চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : দেশের উষ্ণতম জেলা চুয়াডাঙ্গায় ক্রমাগত তাপদাহ বাড়ছেই। রমযানের শেষপ্রান্তে গতকালও জেলায় মাঝারি তাপ প্রবাহ বয়ে যায়। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়- গতকাল শুক্রবার (২৮মার্চ) দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও ৩ ঘন্টার ব্যবধানে বিকাল ৩টায় তা বেড়ে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে। আবহাওয়ার পরিভাষায় যা ছিল মাঝারি তাপ প্রবাহ। দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গার বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ১৯ শতাংশ, বিকাল ৩টায় ছিল ১৮ শতাংশ।
এর আগেরদিন বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা বেড়েছে ২ ডিগ্রি বেশি। এটা ছিল এ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান জানান, শুক্রবার বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেডর্ড করা হয় ৩৯ডিগ্রি সেলসিয়াস, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৮ শতাংশ। গত বছর ২৮ মার্চ জেলার তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের এই দিনের তাপমাত্রা চেয়ে আজকের তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি বেশি।
উল্লেখ্য, গত বছর ৩০ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৪৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ১লা মে তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৪২ দশমিক৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস । তিনি জানান- তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এদিকে সকাল থেকেই রোদের তীব্র প্রখরতায় প্রচন্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। তাপের সাথে বাতাসে বয়ে যাচ্ছে আগুনের হল্কা। অসহনীয় তাপপ্রবাহের মধ্যে খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ। যারাও বের হয়েছেন তারাও অল্পতেই অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। সবথেকে বেশি কষ্টে পড়েছেন রোজাদাররা।
চুয়াডাঙ্গা শহরের বড় বাজার এলাকার এক ইজিবাইক চালক ইলিয়াস আলী জানান, এমনিতে ছুটির দিন, তার ওপর প্রচন্ড গরম। রাস্তাঘাটে একেবারেই লোকজন নেই। রাস্তায় ঘুরে ঘুরেও কোনো যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। অযথা রাস্তায় থেকে নিজেও ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।
ফুটপাতের ফল ব্যবসায়ী করন হোসেন জানান, এতটাই গরম লাগছে মনে হচ্ছে আগুনের তাপ। গরম বাতাসে কোথাও স্বস্তি নেই, রাস্তাঘাট উত্তপ্ত হয়ে আছে।