ফটিকছড়ি সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শীতে সাতে পাল্লা দিয়ে জমে উঠেছে ভাপা পিঠা বিক্রি। ফুটপাত থেকে শুরু করে দোকানে ভাপা পিঠা বিক্রি জমে উঠছে দারুনভাবে
শীত এলেই নবান্নের আনন্দে ভাপা পিঠা খাওয়ার ধুম বাঙালির ঐতিহ্যের একটি অংশ। তবে আগের মত গৃহস্থদের ঘরে ভাপা পিঠা তৈরির তেমন উৎসাহ দেখা যায় না। পিঠা প্রিয়দের জন্য সুখবর হচ্ছে সহজ উপায়ে ফটিকছড়ির ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবার দোকানে ভাপা পিঠা বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতে পুরুষদের ভাপা পিঠা বিক্রির দৃশ্য। এসব জায়গায় ভাপা পিঠা খাওয়ার জন্য সব বয়সের মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতি পিচ ভাপা পিঠা ৫থেকে ১০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আবার খেজুর রস পাওয়া দুরূহ হওয়ায় গুড় দিয়ে রস বানিয়ে প্রতি গ্লাস ৪-৫ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে।
বৃদ্ধ আলম মিয়া বলেন, এক সময় আমন ধান ঘরে উঠার সাথে সাথে ঘরের বউ-ঝিয়েরা ভাপা পিঠা তৈরি করত। পাড়া প্রতিবেশিদের ডেকে ডেকে খাওয়াত। আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে পাঠানো হত। এখন বউ-ঝিয়েরা এ কষ্ট করতে চায়না। তাই পরিবারের সকলের জন্য দোকান থেকে নিতে আসলাম ভাপা পিঠা। পিঠা কিনতে আসা আনিস বলে, আম্মুকে বললাম ভাপা পিঠা খেতে ইচ্ছে করছে। আম্মু টাকা দিল দোকানে থেকে ভাপা পিঠা আনতে।
মোহাম্মদ এয়াকুব নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, খেজুর রস দিয়ে ভাপা পিঠা খাওয়ার যে স্বাদ ছোট বেলার সে কথা মনে পড়তে জিহবায় জল চলে আসে। কিন্তু এখনতো চাইলেই হাটবাজারে ভাপা পিঠা পাওয়া যাচ্ছে।
পিঠা খেতে খেতে মোহাম্মদ নাজিম বলেন,শীতে ভাপা পিঠার স্বাধ অন্যরকম,তাই ঘরে তৈরি করে খাওয়ার অপেক্ষা করিনা। দোকানে খাওয়ার জন্য চলে আসি।
বিক্রেতা মোহাম্মদ জসিম বলেন, প্রতিদিন ১২শ টাকার পিঠা বিক্রি করি। এতে ৪ থেকে ৫শ টাকা মত লাভ হয়। ঘরের জন্য অনেকে অগ্রিম অর্ডার দেয় বলেও জানান তিনি।