চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের সময় র‌্যাব সদস্য নিহতের ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান। তিনি বলেছেন, সলিমপুরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যে কোনো মূল্যে নির্মূল করা হবে। অবৈধ কর্মকাণ্ডের সব আস্তানা ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর পতেঙ্গায় র‌্যাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সদর দফতরে নিহত সদস্যের নামাযে জানাযা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় সীতাকু- উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে যাওয়া র‌্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। এতে র‌্যাবের বিজিবি থেকে প্রেষণে কর্মরত নায়েক সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (৪৮) নিহত হন। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। একই ঘটনায় আরও তিন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের অবস্থানের তথ্য পেয়ে একটি টিম গ্রেফতারে গেলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতকারী সংঘবদ্ধভাবে র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এখন সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানা ও ড্রেনে পরিণত হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসকারী, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করা হবে। তিনি জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, সলিমপুরে যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে সরকারি খাসজমি উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ধ্বংস করা হবে। যত সময়ই লাগুক, এই অভিযান চলবে।

অভিযানে কৌশলগত কোনো ত্রুটি ছিল কি নাÑ এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ৫০ জনের বেশি জনবল নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। তবু একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো ভুলত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধন করে ভবিষ্যতে আরও দৃঢ়ভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে। যারা এ হত্যাকা- ও হামলার সঙ্গে জড়িত, সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

নিহত মোতালেবের পরিবারের পাশে র‌্যাব থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবারটির দায়িত্ব র‌্যাব গ্রহণ করেছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাব বিষয়টি মনিটরিং করবে।

তিনি জানান, ২০০৪ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে র‌্যাবের ৭৫ জন সদস্য শহিদ হয়েছেন-এই ঘটনায় সেই তালিকায় আরও একজন যুক্ত হলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে র‌্যাব সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করে যাবে।

এদিকে, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এখনো কাউকে গ্রেফতার করা না গেলেও যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।