বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মীর শাহে আলমের দাখিলকৃত হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এর সুস্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন করে তিনি একাধিক সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত লাভজনক পদে বহাল থেকেও নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছেন বলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট সোমবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বগুড়া শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন।
আলমগীর হোসাইন অভিযোগে উল্লেখ করেন, “মীর শাহে আলম তথ্য গোপন করে প্রার্থী হয়েছেন। তার তথ্য গোপনের বিষয়টি আমলে না নিয়ে তার মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষনা করা হয়েছে। মীর শাহে আলম বিসিক নামক একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে এখন অবধি নিয়োজিত আছেন। বিসিকের পরিচালক পদ হতে ইস্তফা না দিয়ে মিথ্যা ঘোষনা প্রদান করেছেন। অর্থাৎ তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করে নিয়ম ভংগ করে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুযোগ লাভ করেছেন। বিসিকের পরিচালক পদ হতে ইস্তফা দেয়ার বিষয়ে শিল্প সচিব, বিসিক চেয়ারম্যান এবং বিসিকের পরিচালক প্রশাসন তাদের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে জানান যে- মীর শাহে আলমের ইস্তফা প্রদান বিষয়ে তারা অবগত নন এবং ইস্তফাদানের কোন ডকুমেন্ট তাদের হাতে আসেনি বা তাদের নজরে পড়েনি। মীর শাহে আলম বিসিকের পরিচালক পদ হতে ইস্তফা প্রদান করেননি তার বড় প্রমান হচ্ছে ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বিসিক পরিচালনা পর্ষদের ৮৩৪তম সভার নোটিশের ০৫নং ক্রমিকে জনাব মীর শাহে আলম, সরকার কর্তৃক মনেনীত শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পর্ষদ সদস্য শিরোনামে লেখা হয়েছে। সুস্পষ্টভাবে তথ্য গোপন করার পরেও মীর শাহে আলমের মনোনয়ন পত্রের বৈধতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী তার মনোনয়ন পত্র বাতিলযোগ্য বিধায় তার প্রার্থীতা বাতিল ঘোষনা করা আইনতঃ আবশ্যক।”
বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিলকৃত হলফনামায় মীর শাহে আলম উপজেলার অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাজার ও মসজিদ কমিটির সভাপতি হিসেবে থাকা, পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) এর পরিচালক পদে বহাল থাকার তথ্য গোপন করেছেন। এসব পদ থেকে পদত্যাগের কোনো গ্রহণযোগ্য দলিলও জমা দেননি। এছাড়াও বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন যে, মীর শাহে আলম এখনও বিআরটিসি পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান জানিয়েছেন, “মীর শাহে আলম যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত লাভজনক পদগুলোর কোনো পদত্যাগপত্র সংযুক্ত নেই। বিষয়টি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নামের আদ্যাক্ষর অনুসারে সাজানোর নিয়মত থাকলেও বগুড়া-২ আসনের তালিকায় মীর শাহে আলমের নাম উপরে তুলে আনা হয়েছে। একই তালিকায় তার নাম আবার নিচের দিকেও রাখা হয়েছে। ফলে যেখানে সাতজন প্রার্থী থাকার কথা সেখানে ওয়েবসাইটে আটজন প্রার্থী দেখানো হচ্ছে।