চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে ডিআইজি বাংলোর নিরাপত্তা রক্ষী পুলিশ কনস্টেবলকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. জাবেদ, নুরুল আলম, সুমন মোল্লা, হারুন অর রশিদ, তপন চন্দ্র সরকার, মিন্টু দাশ, আরছাল ওরফে রাসেল, ফারুক ওরফে বুলেট ফারুক, মো. সোহেল ও মো. বাবুল। তারা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য এবং যুবলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডিতদের মধ্যে তপন চন্দ্র সরকার, আরছাল ওরফে রাসেল, মো. সোহেল ও মো. বাবুল কারাগারে থাকলেও বাকি ছয়জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী মোহাম্মদ সাহেদ জানান, দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারায় খুনসহ ডাকাতির অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। রায়ে আদায় হওয়া জরিমানার অর্থ নিহত কনস্টেবলের পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর সকালে নগরীর খুলশী থানার বাটালি পাহাড় এলাকায় ডিআইজি বাংলোর নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ কনস্টেবল আবদুল কাইয়ুম ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরও তিন পুলিশ কনস্টেবল- আরিফুল ইসলাম, সাহাবউদ্দিন ও সালাউদ্দিন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন জুয়েল ও ইউসুফ আলী খান নামে দুই ব্যক্তি ছিনতাইয়ের শিকার হলে তাদের চিৎকারে ঘটনাস্থলে থাকা পাঁচ পুলিশ কনস্টেবল ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন। এ সময় অন্যান্য ছিনতাইকারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়, এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় খুলশী থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।