জয়পুরহাট ও কালাই সংবাদদাতা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে যে দলগুলো আছে সেই দল গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করতে পারবেন না আপনারা। যারা আল্লাহর আইনের পক্ষে ও কুরআন সুন্নাহ আইনের পক্ষে আছে এরা সব আল্লাহর দল। কুরআন ও রাষ্ট্রের আইন যতদিন আলাদা থাকবে ততদিন দেশে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজসহ সমস্ত অন্যায় দেশে রাজত্ব করবে । কুরআন সংসদে যেতে পারলে, সেখান থেকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের ঝাঁটিয়ে বিদায় করে দেওয়া হবে। আর যারা নির্বাচনের আগেই মানুষকে হত্যা করা শুরু করেছে। তারা জয়লাভ করলে এদেশে খুনের রাজত্ব আরও বেড়ে চলবে। তাদের আমরা ক্ষমতায় দেখতে চাইনা। তাই আগামী ১২ তারিখে কুরআন যাবে, না মানব রচিত মতবাদ যাবে জাতীয় সংসদে সেটার পরীক্ষা হয়ে যাবে।

গতকাল শনিবার বিকেলে শহীদ ডা: আবুল কাশেম ময়দানে ১১দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় জয়পুরহাট-১ আসনের জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা মার্কার সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর ফজলুর রহমান সাঈদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া মন্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন জয়পুরহাট-২ আসনের জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা মার্কার সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতে সহকারী সেক্রেটারি এস এম রাশেদুল আলম সবুজ , জেলা জামায়াতে সহকারী সেক্রেটারি হাসিবুল আলম লিটন ও এ্যাড. মামুনুর রশীদ, এবি পার্টির জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ সুলতান মো. শামছুজ্জামান, এনসিপি’র জেলা যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার গোলাম কবির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসেন, জেলা জামায়াতের তারবিয়াত সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা সহকারী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসেন, পাঁচবিবি উপজেলা আমীর সুজাউল করিম, শহর আমীর মাও: সাইদুর রহমান, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা শাহআলম দেওয়ান, শহর জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোমেন ফকির, জামায়াত নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বাতেন, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি তারেক হোসেন, সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

নির্বাচনী জনসভায় জনতার স্রোত নামে এবং দাঁড়িপাল্লা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে গোটা শহর।

জয়পুরহাট-১ আসনের জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা মার্কার সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর ফজলুর রহমান সাঈদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, স্বাস্থ্য, চিকিৎসার উন্নয়নে জেলায় মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, শিক্ষার উন্নয়ন, যানজট নিরসন, এবং কৃষি ভিত্তিক এলাকা হিসেবে কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করা হবে।

এছাড়াও জেলার একমাত্র ভারী শিল্প সুগার মিলের উন্নয়নে কাজ করা হবে। তিনি মাদক মুক্ত উন্নত জয়পুরহাট গড়তে এবং সকলকে নিয়ে একসাথে সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে বিজয়ী করার আহবান জানান।

অপরদিকে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল ১০ টায় জয়পুরহাট-২ আসনে ১১দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম সবুজ এর সভাপতিত্বে দাঁড়িপাল্লা নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান।

তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১দলীয় জোটের প্রার্থী জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এস এম রাশেদুল আলম কে জয়পুরহাট-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহব্বান জানান।

তিনি আরো বলেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি মুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সংসদে কুরআনের আইন চালুর জন্য সৎলোকদের পাঠাতে হবে এবং গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করতে হবে।

দাঁড়িপাল্লা মার্কার সমর্থন এবং জামায়াত প্রার্থীর এস এম রাশেদুল আলম সবুজ এর সাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন এবি পার্টির প্রার্থী এস এ জাহিদ সরকার।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জয়পুরহাট-১ আসনের ১১দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর ফজলুর রহমান সাঈদ, কালাই উপজেলা সাবেক আমীর মাও: নুরুজ্জামান সরকার, খেলাফত মজলিস নেতা কামরুজ্জামান, কালাই উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওঃ মুনছুর রহমান, সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল আলীম, ক্ষেতলাল উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ মোঃ আমিনুল ইসলাম, সেক্রেটারি শামীম হোসেন, পৌর আমীর আব্দুস সামাদ, সেক্রেটারি আব্দুল খালেক, সহকারী রাজনৈতিক সেক্রেটারি মীর শয়ন, বগুড়ার শিবির নেতা শফিকুল ইসলাম সহ স্থানীয় ১১দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব বক্তব্যে জয়পুরহাট-২ আসনের এমপি প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম সবুজ তার উপর বিগত আওয়ামী দুঃসাশন আর যুলুম নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। এ নির্যাতনের বর্ণনা সময় জনতার কেঁদে ফেলেন।

তিনি নির্বাচিত হলে তার নির্বাচিত এলাকায় কৃষি, রেলস্টেশন, শিক্ষা, রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, পর্যটন এলাকা নান্দাইল দীঘি, আচরাঙ্গা দীঘি, বিলেরঘাট, তিলকপুরে আলুর কারখানা চালুর করার ঘোষণা দেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও আক্কেলপুর উপজেলার সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ছিলেন।