শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার করতোয়া তীরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্প কল কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে মারাত্মক দূষণের কবলে নদী। ফলে এর প্রভাব পড়েছে এই এলাকা মানুষের জীবনে। তাদের অনেকেরই শরীরে বিভিন্ন রোগ ব্যাধি দেখা দিয়েছে। রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা নিতে তাদের প্রায়শই হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। তবে এলাকার ভুক্তভোগি মানুষদের এ খবর অবগত নয় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর।
জানা গেছে, বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা বিভিন্ন কারখানায় সূতার প্রসেস ও ডাইয়ং মিলের বর্জ্য শাহজাদপুরের প্রাণ করতোয়া নদীতে ফেলায় তীরবর্তী মানুষ নদীতে গোসল করতে গিয়ে তারা ঘা পাঁচড়াসহ বিভিন্ন ধরনর রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই নদীর পানি দূষণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, তা ব্যবহারের উপযোগি নয়। ফলে নদী তীরের মানুষদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এমনকি নদীর মাছের উৎপাদন ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।
অভিযোগে জানা গেছে, করতোয়া নদীর পাড়ে প্রাচীন গ্রাম গঙ্গাপ্রসাদ, থানাঘাট, রুপপুর, হাবিবুলল্লাহ নগর ইউনিয়নের দরগাহ্র চর, বাজিয়ার পাড়া এলাকায় সরকারি নিয়ম নীতি না মেনে গড়ে উঠেছে প্রসেসমিল, ডাইং কারখানা। এসব কারখানার বর্জ্য পাইপ দিয়ে করতোয়া নদীতে ফেলা হচ্ছে। প্রসেসমিলের বিষাক্ত বর্জ্যে নদীর পানির রং কালো হয়ে গেছে। মাছ মরে যাচ্ছে। স্থানীয়রা চর্মরোগ, চুলকানি ও জ্বর-ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন। অনেকেই চিকিৎসার জন্য শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. তুহিন আলম জানান, করতোয়া নদী দূষণের খবর তার অফিসের কেউ অবগত নয়। তিনি জানান, শাহজাদপুরে প্রায় দেড় ডজন ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ৪টির অনুমোদন থাকলেও বাকিগুলোর নেই। খুব শিগগির পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে শাহজাদপুরে ইটভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অনিয়ম করে নদী ও জলাশয়ে যারা বর্জ্য ফেলছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।