আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওইদিন সকালে গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দেবেন এবং বিকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল রোববার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

তিনি বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরে বিকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে সরকার। এ সিদ্ধান্তকে প্রকাশকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনুষ্ঠান দু’টি ঘিরে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে প্রার্থী আলোচনায় জুবাইদা-জাইমা-শার্মিলা

আগামী এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হবে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দুই আসনে জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসন রেখে বগুড়া-৬ ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। আর সেই উপনির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে।

সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৬ আসন। তাই এখানে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেটি শুধু একটি উপনির্বাচনের সিদ্ধান্ত হিসেবে নয় বরং সরকারের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এ আসনে প্রার্থী তালিকায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ছাড়াও জিয়া পরিবারের সদস্যদের নাম।

দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, বগুড়া-৬ শুধু একটি আসন না, এটা দলের ঐতিহ্যের অংশ। এখানে এমন কাউকে দিতে হবে, যিনি সরকারের প্রতিনিধিত্বও করতে পারবেন। তৃণমূল চায়, এবার স্থানীয় পরীক্ষিত কাউকে দেওয়া হোক। আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই প্রার্থী আসা উচিত।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, দলের নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই চেয়ারম্যান আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। এখানে ব্যক্তিগত অনুভূতির কোনো বিষয় নেই। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকেই জানানো হবে।

অন্যদিকে আসনটিতে নির্বাচন করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত অবস্থান নেয়নি জামায়াতে ইসলামী। দলটির বগুড়া শহর আমির আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যালোচনায় রয়েছে। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

অতীতে এই আসন থেকে নির্বাচন করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আবারও জিয়া পরিবারের কাউকে আনার আলোচনাও চলছে। জেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, এই আসনের সঙ্গে জিয়া পরিবারের আবেগ জড়িয়ে আছে। তবে সরকার গঠনের পর বাস্তবতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে জুবাইদা রহমান, তার মেয়ে জাইমা রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, সরকার গঠনের পর এটি হবে প্রথম উপ-নির্বাচন। এখানে কাকে দেওয়া হচ্ছে, সেটি দেখেই বোঝা যাবে বিএনপি কোন ধরনের নেতৃত্ব সামনে আনতে চায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই আসন ছেড়েছেন। ফলে এখানে যিনি প্রার্থী হবেন, তিনি কার্যত সরকারের মুখ হিসেবেই বিবেচিত হবেন।

১৯৯০ সালের পর বগুড়া-৬ আসনে একাধিকবার উপ-নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিএনপির শীর্ষ নেতা একাধিক আসনে জয়ের পর এই আসন ছেড়ে দেওয়ায় নির্বাচন হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এ আসন থেকে বারবার জিতেছেন (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮) বেগম খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া‑৬ আসন থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। এরপর তিনিও এই আসন থেকে শপথ না নেওয়ায় ২০১৯ সালের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। এরপর ২০২৪ এর নির্বাচনেও অংশ নেয়নি বিএনপি।