পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় সরকার পরিচালিত স্কুল ফিডিং (মিড ডে মিল) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন সিদ্ধ ডিম, বনরুটি, প্যাকেট দুধ, কলা, ফার্টিফায়েড বিস্কিট ও মৌসুমী ফল খাওয়ানোর নীতিমালায় থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রতি সোমবার দিন শুধুমাত্র দুধ সরবরাহ করা হলেও নির্ধারিত অন্যান্য খাবার দেয়া হয়না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও খাদ্য সরবরাহের অবস্থা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকগণ অবগত নন।
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৫০টি উপজেলায় ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু করে। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত দিনে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের কথা থাকলেও কটিয়াদীতে কার্যত তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কটিয়াদী উপজেলার ১২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ২৪ হাজার ৪৮৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত খাদ্য তালিকা অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ দিন-রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার: বনরুটি (১২০ গ্রাম) ও সিদ্ধ ডিম (৬০ গ্রাম) সোমবার বনরুটি ও ২০০ মিলিলিটার ইউএইচটি দুধ, বুধবার: ফর্টিফায়েড বিস্কুট (৭৫ গ্রাম) ও ১০০ গ্রাম মৌসুমি ফল খাওয়ানোর মাধ্যম কর্মসূচি শুরু হলেও বাস্তবে তা কেবল নামেই চলছে। অভিযোগ রয়েছে, চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল কয়েক প্যাকেট তরল দুধ সরবরাহ দেখিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাগুজে হিসাব মিলানো হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার আচমিতা ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নভেম্বরের ২৩ তারিখ থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের জন্য যেখানে প্রায় ৩ হাজার প্যাকেট দুধের প্রয়োজন, সেখানে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৮৩৭ প্যাকেট। কর্মসূচি শুরুর পর থেকে ডিম, বনরুটি, বিস্কুট, কলা কিংবা অন্যান্য মৌসুমি ফল একবারের জন্যও সরবরাহ করা হয়নি। একই চিত্র দেখা গেছে বেতাল ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চান্দপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে।
চরপুক্ষিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন জানান, নভেম্বর থেকে মিড ডে মিল কর্মসূচি শুরু হলেও আমাদের স্কুলে ডিসেম্বর থেকে শুধু তরল দুধ দেয়া হচ্ছে। তবে কে বা কোন প্রতিষ্ঠান এসব দুধ সরবরাহ করছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।
বেতাল ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা রহমান জানান, সপ্তাহে শুধু সোমবার শিক্ষার্থীদের এক প্যাকেট করে তরল দুধ দেয়া হয়। অন্যান্য খাবার দেয়ার কথা থাকলেও তা কখনো দেয়া হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির টেন্ডার জাতীয় পর্যায়ে দেয়া হয়েছে। কে বা কারা টেন্ডার পেয়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। প্রাণ কোম্পানি দুধের টেন্ডার পেয়েছে, সেই অনুযায়ী কটিয়াদী উপজেলায় দুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে অন্যান্য খাবার সরবরাহের বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মিড-ডে মিল একটি পাইলটিং প্রকল্প , স্কুলগুলোতে শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সপ্তাহে ৫ দিন ডিম, দুধ, কলা, বিস্কুট, ও দেশীয় ফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের সাথে মাসিক মিটিং এ আমি জানতে পারলাম প্রকল্পটির আওতায় সপ্তাহে একদিন শুধুমাত্র দুধ সরবরাহ করা হলেও অন্য কোন খাবার দিচ্ছে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন খাবার পাচ্ছে না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।