মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা : আবুল হোসেন মণিরামপুরের একজন সফল তরুণ উদ্যোক্তা। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি উদ্যোক্তার খাতায় নাম লেখান। অতি অল্প বয়সে কেন উদ্যোক্তার কাজ বেছে নিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, যখন তিনি মণিরামপুর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়েন তখন ভাবলেন দেশে চাকুরির ক্ষেত্র সীমিত প্রতিযোগিতা প্রচ- আবার বাজার দর ও জীবন যাত্রার মান অনুযায়ী বেতন অতি অল্প। ফলে দেশের যুবক, তরুণ এমন কি মধ্য বয়সের অনেকে পাড়ি জমাচ্ছে প্রবাসে। বিদেশ যাবার ব্যাপক খরচ ও বিদেশের অমানসিক পরিশ্রম করার চেয়ে দেশে স্বল্প খরচে নিজে পরিশ্রম করে স্বাবলম্বী হবার চিন্তা তার মাথায় আসে।

আবুল হোসেন ২০১৪ সালে প্রথমে ৩০০ পিচ বয়লার মুরগীর জিরো বাচ্চা দিয়ে তার উদ্যোক্তার জীবন শুরু করেন। তারপর ক্রমান্বয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে বাচ্চার সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। ইতোমধ্যে তিনি মণিরামপুর ডিগ্রী কলেজ থেকে ইতিহাস বিষয়ে বিএ (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি তার মুরগীর খামার বড় করেন। বর্তমানে তার খামারে ৩টি শেডে ২,৫০০ মুরগী পালন করছেন। তিনি আরো জানান, মুরগীর বাচ্চাগুলো ৩২ দিনে ২ কেজি ও ৩৫ দিনে ২.৫ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। এই সময় সমস্ত মুরগী বিক্রি করে দেন। লাভ কেমন থাকে এমন প্রশ্নেব উত্তরে জানান, বাজার ভালো থাকলে প্রতি চালানে সমস্ত খরচ বাদে ৮০ হাজার থেকে ১লক্ষ টাকা আর মন্দা থাকলে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা নিট লাভ থাকে। এ পর্যন্ত তিনি কোন চালানে লোকসান খায়নি। খামারে এভাবে ৬ থেকে ৭টি চালান মুরগী পালন করা যায়।

আবুল হোসেন মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। মুরগী পালনের পাশাপশি তিনি নিজ গ্রাম জালালপুর বাজারে ভেটেনারী ঔষধ ও পোল্ট্রি ফিডের ব্যবসা করেন। আবুল হোসেনের স্বপ্ন বৃহৎ পরিসরে তার মুরগীর খামারটি বৃদ্ধি করা। এ ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা তিনি কামনা করছেন।